কলকাতা: টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে ভিজেছে (Weather Update) কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর ভারত থেকে হিমালয়, চিন হয়ে দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৭,০০০ থেকে ১০,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিশাল মেঘপুঞ্জ বা ‘মনসুন কনভার্জেন্স জোন’ আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ভেঙে ছোট ছোট নিম্নচাপ এলাকায় পরিণত হতে পারে। এর ফলে ধীরে ধীরে এল নিনোর প্রভাব আবারও সক্রিয় হয়ে বৃষ্টিপাত কমিয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশাল মেঘপুঞ্জই গত কয়েক দিনে কলকাতা, দক্ষিণবঙ্গ এবং পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির অন্যতম কারণ। সাধারণত এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরের বায়ুমণ্ডলীয় প্রবাহে পরিবর্তন ঘটিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বৃষ্টিকে দুর্বল করে দেয়। কিন্তু চলতি সময়ে সক্রিয় এই মনসুন কনভার্জেন্স জোন এল নিনোর সেই প্রভাবকে সাময়িকভাবে দুর্বল করে দিয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের দাবি, এই সময়ে ভারত মহাসাগর থেকে আসা উষ্ণ ও আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু পূর্ব এশিয়ার আবহাওয়া ব্যবস্থার সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি দীর্ঘ মেঘের করিডর তৈরি করেছে। এর জেরেই দেশের বিভিন্ন অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় ১৭০ থেকে ১৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দৈনিক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তবে আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শুধুমাত্র এই কনভার্জেন্স জোন নয়, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় নিম্নচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখাও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ।
আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের উপ-মহানির্দেশক এইচ. আর. বিশ্বাস বলেন, এই ধরনের কনভার্জেন্স জোন বর্ষাকালে নতুন কিছু নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উপদ্বীপীয় ভারতেও এমন মেঘপুঞ্জ দেখা গিয়েছে। বর্তমানে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখার কারণে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির মূল চালিকাশক্তি স্থানীয় আবহাওয়াগত পরিস্থিতি। তবে এই বিশাল মেঘপুঞ্জও বৃষ্টিকে বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
বর্তমানে বঙ্গ-ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় নিম্নচাপ থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প পূর্ব ভারতে প্রবেশ করছে। এর প্রভাবে কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে মৌসুমের শুরুতে যে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল, তা অনেকটাই পূরণ হয়েছে।
তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে এই প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ মেঘের করিডর ধীরে ধীরে ভেঙে বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন নিম্নচাপ এবং বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ভাগ হয়ে যাবে। এর অর্থ এই নয় যে এল নিনো হঠাৎ করে সক্রিয় হয়ে যাবে, বরং বর্তমানে যে আঞ্চলিক আবহাওয়া ব্যবস্থা বৃষ্টিকে জোরদার করছে, তা ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, আগামী ৩ থেকে ৫ দিন উত্তর, পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে সক্রিয় থেকে জোরালো মৌসুমি বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব ভারতে জুলাইয়ের শেষ এবং আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ষার সক্রিয় পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এরপর নিম্নচাপের কার্যকলাপ কমে গেলে এবং মনসুন কনভার্জেন্স জোন ভেঙে পড়লে এল নিনোর প্রভাব ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে পারে। সেক্ষেত্রে আগস্টের দ্বিতীয় ভাগে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে চূড়ান্ত পরিস্থিতি নির্ভর করবে বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপের সৃষ্টি এবং মৌসুমি অক্ষরেখার অবস্থানের উপর।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের





