কে এই নন্দন নিলেকানি? আধারের রূপকারের হাতেই দেশের পরীক্ষা সংস্কারের দায়িত্ব

নয়াদিল্লি: NEET-UG-সহ একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভের আবহে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র সরকার। দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ…

who-is-nandan-nilekani-exam-reform-task-force-neet-india

নয়াদিল্লি: NEET-UG-সহ একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভের আবহে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র সরকার। দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে কেন্দ্র। এই কমিটির নেতৃত্বে রাখা হয়েছে ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং আধার প্রকল্পের রূপকার নন্দন নিলেকানিকে (Nandan Nilekani)।
রবিবার (২৬ জুলাই) জাতির উদ্দেশে ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই টাস্ক ফোর্স গঠনের ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকার ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। এবার ভবিষ্যতের কথা ভেবে পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, তারা জেলে রয়েছে। ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হয়েছে। কঠোর আইনের দিকেও এগোচ্ছি। তবে শুধু শাস্তি দিলেই হবে না, ভবিষ্যতের পরীক্ষা ব্যবস্থাকেও আরও নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে।”

Advertisements

Also Read |  বড় সিদ্ধান্ত মোদীর! শিক্ষা পদ্ধতিতে বদল আনতে ইনফোসিসের সহ প্রতিষ্ঠাতা নীলকেনির নেতৃত্বে তৈরী বিশেষ টাস্কফোর্স

কে এই নন্দন নিলেকানি (Nandan Nilekani)?

নন্দন নিলেকানি ভারতের অন্যতম খ্যাতনামা প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। তিনি ইনফোসিসের (Infosys) সহ-প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। তবে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় আধার (Aadhaar) প্রকল্পের রূপকার হিসেবে।

২০০৯ সালে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি আধার প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে ১২ সংখ্যার আধার নম্বর দেশের সরকারি পরিষেবা, ভর্তুকি, ডিজিটাল লেনদেন এবং পরিচয় যাচাই ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে।

ভারতের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও নিলেকানির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। প্রযুক্তি ও সুশাসন নিয়ে তাঁর মতামত দীর্ঘদিন ধরেই নীতিনির্ধারণী মহলে গুরুত্ব পেয়ে আসছে।

Also Read | যন্তরমন্তর শেষে এবার তামিলনাড়ুতে শুরু আন্দোলনের প্রস্তুতি! নেতৃত্বে আত্মহত্যা করা ছাত্রের ভাই

রাজনীতিতেও পা রেখেছিলেন

কর্পোরেট জগতের পাশাপাশি রাজনীতিতেও ভাগ্য পরীক্ষা করেছিলেন নন্দন নিলেকানি। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে বেঙ্গালুরু দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে বিজেপির প্রার্থী অনন্ত কুমার-এর কাছে পরাজিত হন। এরপর তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে এসে প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করছেন।

৬ সদস্যের বিশেষ টাস্ক ফোর্স

নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বাধীন এই কমিটিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—
• প্রাক্তন ISRO চেয়ারম্যান এস. সোমনাথ
• প্রাক্তন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB) প্রধান তপন ডেকা
• আইআইটি মাদ্রাজের ডিরেক্টর ভি. কামাকোটি
• প্রাক্তন শিক্ষা সচিব অনিতা কারওয়াল
• লজিস্টিক্স বিশেষজ্ঞ অমৃত লাল মীনা
সরকারের লক্ষ্য, প্রযুক্তি, প্রশাসন, নিরাপত্তা এবং শিক্ষাক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাকে একত্র করে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় বড় সংস্কার আনা।

কংগ্রেসের প্রশ্ন

এই ঘোষণার পর কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালে NEET-UG বিতর্কের পর গঠিত কে. রাধাকৃষ্ণন কমিটির ১০১টি সুপারিশ এখনও পুরোপুরি কার্যকর করা হয়নি।

জয়রাম রমেশের অভিযোগ, দুই বছর কেটে গেলেও সরকার ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র জন্য পূর্ণকালীন ডিরেক্টর জেনারেল নিয়োগ করেনি। তাঁর মতে, নতুন টাস্ক ফোর্স মূলত প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি রক্ষার একটি প্রচেষ্টা।

ছাত্র আন্দোলনের পর বড় সিদ্ধান্ত

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন চলছিল। দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, সংসদ অভিযানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং বিরোধীদের লাগাতার চাপের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।

এরপরই পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে এই উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে দেশের প্রবেশিকা ও নিয়োগ পরীক্ষাগুলিকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং নির্ভরযোগ্য করে তোলা হবে।