ভারতবিরোধী স্লোগান দিলে হাসপাতালে যেতে হবে: বিস্ফোরক শমীক ভট্টাচার্য

কলকাতা: কলকাতায় শুক্রবারের বিক্ষোভ মিছিলকে ঘিরে হওয়া হিংসার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রবিবার কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে…

samik-bhattacharya-controversial-remark-anti-india-slogans-kolkata

কলকাতা: কলকাতায় শুক্রবারের বিক্ষোভ মিছিলকে ঘিরে হওয়া হিংসার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রবিবার কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, দেশে ফের “ভারতবিরোধী শক্তি” মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। পাশাপাশি, ভারতবিরোধী স্লোগানদাতাদের বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্যও করেন তিনি।

শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “যারা ‘ভারত তেরে টুকড়ে হোঙ্গে’ বা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র মতো স্লোগান দেয়, তারা যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরতে না পারে। তাদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছতে হবে। দেশের মানুষই তাদের জবাব দেবে।”

Advertisements

একই দিনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও শুক্রবারের হিংসার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, ওই ঘটনায় “জামাতি” ও “মৌলবাদী” শক্তির ভূমিকা থাকতে পারে এবং এর পিছনে বিদেশি যোগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

শমীক ভট্টাচার্য আরও বলেন, “যারা হিংসা ছড়িয়েছে তারা দেশবিরোধী শক্তি। তারা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইছে। ভারতের কমিউনিস্টরা একসময় দেশভাগ করেছিল, তারা দেশকে ২৮ টুকরো করতে চেয়েছিল। পিছনের দরজা দিয়ে তারা এই আন্দোলনে ঢুকেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, “এটি শ্যামাপ্রসাদের সরকার, বাবরের নয়। আইন তার নিজস্ব পথে চলবে।”

উল্লেখ্য, শুক্রবারের বিক্ষোভ মিছিলে কয়েকজন সাংবাদিকের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একাংশ বিক্ষোভকারী সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জুতো ও বোতল ছোড়ে এবং কয়েকজনকে শারীরিকভাবে হেনস্তাও করা হয়। এই ঘটনার পর রাজ্য সরকার সদ্য প্রণীত গুন্ডা আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে, শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের উপর হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ভারতবিরোধী স্লোগান দিলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, কিন্তু কাউকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠানোর কথা বলা গণতান্ত্রিক নয়।

কুণাল ঘোষ বলেন, “দেশের বিরুদ্ধে কথা বললে কঠোর আইনি ব্যবস্থা হোক। কিন্তু কাউকে হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া নৈরাজ্যের সামিল। এজন্যই তো পুলিশ ও আদালত রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ভারতে থেকে ভারতের বিরোধিতা করা মেনে নেওয়া যায় না। তবে তার অর্থ এই নয় যে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে হবে।”

অন্যদিকে, বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং অভিযোগ করেন, সিপিএম দীর্ঘদিন ধরেই দেশবিরোধী মনোভাব উসকে দিচ্ছে। তিনি বলেন, “সিপিএম ভাবছে মানুষ তাদের অতীত ভুলে গেছে। তারা ভুল করছে। অমিত শাহ বলেছিলেন, মাওবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটি হয়েছে। এবার সিপিএম মাঠে নামুক, মানুষই জবাব দেবে।”

এর জবাবে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “মানুষ বাস্তব পরিস্থিতি বোঝে। এই ধরনের মন্তব্য করে দীর্ঘদিন তাদের বিভ্রান্ত রাখা যাবে না।”
শুক্রবারের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। সাংবাদিকদের উপর হামলা এবং হিংসার ঘটনাকে ঘিরে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়াও চলছে।

Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা

Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন

Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের