নয়াদিল্লি: টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের একদিন পর সোমবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেতে চলেছেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠায় তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলনের সময় অনশন ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে জবাবদিহি এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের দাবিতে তিনি আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।
এদিকে, আরশোলা জনতা পার্টি (CJP) রবিবার ঘোষণা করে যে তারা “সদিচ্ছার নিদর্শন” হিসেবে তাদের ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহার করছে। সংগঠনের দাবি, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অন্যান্য দাবির বিষয়ে আশ্বাস পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের সময় জানিয়েছিলেন, ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে এবং চলমান আন্দোলনকে যাতে “দেশবিরোধী শক্তি” ব্যবহার করতে না পারে, সেই কারণেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী-কে শিক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন। ইতিমধ্যেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করে মন্ত্রকের কাজকর্ম পর্যালোচনা শুরু করেছেন।
পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে কেন্দ্র সরকার একাধিক পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আরও কঠোর আইন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ নন্দন নিলেকানি-র নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি সরকারি পরীক্ষাগুলিকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করার জন্য সুপারিশ করবে।
Also Read | যন্তরমন্তর শেষে এবার তামিলনাড়ুতে শুরু আন্দোলনের প্রস্তুতি! নেতৃত্বে আত্মহত্যা করা ছাত্রের ভাই
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, চিকিৎসায় ইতিবাচক সাড়া দেওয়ায় সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তাই সোমবার তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
৩৬ দিনের আন্দোলন শেষ হওয়ার পর ওয়াংচুকের হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়াকে আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রের ঘোষিত সংস্কারগুলি কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষাবিদ এবং সংশ্লিষ্ট মহলের।





