কমনওয়েলথ গেমসের (Commonwealth Games) চতুর্থ দিনে ভারতের পদকের সংখ্যা আরও বাড়ল। পুরুষদের ৬০ কেজি ভারত্তোলন বিভাগে দুর্দান্ত লড়াই করে রুপোর পদক জিতলেন ভারতের ঋষিকান্ত সিং। একসময় তাঁর সামনে সোনা জয়ের সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ভারতীয় ভারোত্তোলককে। এর আগে পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে ব্রোঞ্জ জিতে ভারতের পদকের খাতা খুলেছিলেন ঝন্ডু কুমার। ফলে একই দিনে ভারতের ঝুলিতে যোগ হলো দ্বিতীয় পদক।
প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন ঋষিকান্ত। স্ন্যাচ বিভাগে তিনি ১২১ কেজি ওজন তুলে নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড গড়ে সবাইকে চমকে দেন। সেই পারফরম্যান্সের পর তাঁকে সোনা জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবেই ধরা হচ্ছিল। প্রথম পর্ব শেষে তিনিই ছিলেন এগিয়ে।
তবে ক্লিন অ্যান্ড জার্কে এসে বদলে যায় ছবিটা। প্রথম প্রচেষ্টায় ১৪৩ কেজি ওজন সফলভাবে তুললেও পরবর্তী দুই চেষ্টায় ১৪৮ এবং ১৫১ কেজি তুলতে ব্যর্থ হন ভারতীয় অ্যাথলিট। এই ব্যর্থতার সুযোগ কাজে লাগান মালয়েশিয়ার মহম্মদ আনিক বিন কাসদান। তিনি ছয়টি প্রচেষ্টাতেই সফল হন এবং মোট ২৭৩ কেজি ওজন তুলে নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড গড়ে স্বর্ণপদক নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে মোট ২৬৪ কেজি ওজন তুলে দ্বিতীয় স্থানে থেকে রুপোর পদক জেতেন ঋষিকান্ত।
ভারতের জন্য দিনটি যেমন পদকের আনন্দ নিয়ে এসেছে, তেমনই লন বোলে কিছুটা হতাশাও দিয়েছে। মহিলাদের জুটির বিভাগে রূপা রানি তিরকে ও পিঙ্কি সিং টানা দুই ম্যাচ জিতে দারুণ ছন্দে ছিলেন। কিন্তু নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে তাঁদের সেই জয়যাত্রা থেমে যায়।
প্রথম সেটে দুই দলই সমান তালে লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত সেটটি নিজেদের করে নেয় নামিবিয়া। দ্বিতীয় সেটে অবশ্য দারুণ প্রত্যাবর্তন করে ভারতীয় জুটি। একতরফা খেলায় ১০-১ ব্যবধানে সেট জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান তাঁরা। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে চাপ সামলাতে না পেরে টাইব্রেকারে হেরে যান রূপা ও পিঙ্কি। চলতি আসরে এটাই তাঁদের প্রথম পরাজয়।
অন্যদিকে জিমন্যাস্টিক্সে ভারতের জন্য এল সুখবর। মহিলাদের ভল্ট ইভেন্টে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের সুবাদে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন প্রতিষ্ঠা সামন্ত। যোগ্যতা অর্জন পর্বে সপ্তম স্থানে থেকে তিনি শেষ আটের লড়াইয়ে ওঠেন। ফাইনালে তাঁর কাছ থেকে ভালো ফলের আশায় ভারতীয় শিবির।
সাঁতারেও ভারতের পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। পুরুষদের ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলে ইভেন্টে শ্রীহরি নটরাজ, আরিয়ান নেহরা, অনীশ গৌড়া এবং দক্ষণ শশীকুমারের দল নিজেদের হিটে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। আগামী ফাইনালে এই দল পদকের জন্য লড়াই করবে।
সব মিলিয়ে কমনওয়েলথ গেমসের চতুর্থ দিনটি ভারতের জন্য ছিল সাফল্য ও সম্ভাবনার মিশেল। ঋষিকান্ত সিংয়ের রুপোর পদক ভারতের পদক তালিকাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। পাশাপাশি জিমন্যাস্টিক্স ও সাঁতারে একাধিক ফাইনালে ভারতীয়দের ওঠা ভবিষ্যতে আরও পদকের আশা জাগাচ্ছে। যদিও লন বোলে রূপা রানি তিরকে ও পিঙ্কি সিংয়ের পরাজয় কিছুটা হতাশা বাড়িয়েছে, তবু সামগ্রিকভাবে ভারতের পারফরম্যান্স ইতিবাচক বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে পরবর্তী ইভেন্টগুলোর দিকে, যেখানে আরও কয়েকজন ভারতীয় ক্রীড়াবিদ দেশের জন্য পদক জয়ের লক্ষ্যে নামবেন।





