‘ধর্মেন্দ্রকে পদত্যাগ করিয়ে বিদেশি ষড়যন্ত্র সামনে এনেছে কেন্দ্র!’ বিস্ফোরক বিজয়বর্গী

নয়াদিল্লি: নিট-ইউজি পরীক্ষায় কথিত প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে (Vijayvargiya)সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে চলা ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘটনায় নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। পদত্যাগের…

vijayvargiya-pradhan-resignation

নয়াদিল্লি: নিট-ইউজি পরীক্ষায় কথিত প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে (Vijayvargiya)সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে চলা ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘটনায় নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। পদত্যাগের একদিন পর বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা ও মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী কৈলাশ বিজয়বর্গীয় দাবি করেছেন যে, আন্দোলনের প্রথম দিনেই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলনকে চলতে দিয়ে এবং শেষে প্রধানের এই পদত্যাগ বিদেশি শক্তির ভারত-বিরোধী ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে দিয়েছে।পিটিআই-এর খবর অনুসারে, কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বলেছেন, “আন্দোলন শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় নেতৃত্ব তাঁকে অনুরোধ করে কিছুদিন অপেক্ষা করতে বলে।” তিনি দাবি করেন যে, এই পদত্যাগের মাধ্যমে বিদেশি শক্তির উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে, যারা ছাত্র আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চেয়েছিল।

Advertisements

আরও দেখুনঃ ১২০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে রেকর্ড ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা চলছে। নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে ছাত্ররা বিক্ষোভ দেখায়। সুপ্রিম কোর্টও মামলা গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ অনেককে অবাক করেছে। কেউ কেউ এটিকে সরকারের দায়িত্ব স্বীকার বলে মনে করছেন, আবার অনেকে বলছেন, এটি আন্দোলনকে শান্ত করার কৌশল।

কৈলাশ বিজয়বর্গীয়ের বক্তব্যে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তিনি বিদেশি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বলেছেন যে, কিছু শক্তি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে অস্থির করে সামগ্রিকভাবে ভারতকে দুর্বল করতে চেয়েছিল। বিজয়বর্গীয়ের এই দাবি বিজেপি শিবিরে আলোচিত হলেও বিরোধী দলগুলো এটিকে ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দল বলছে, সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

নিট বিতর্ক শুরু হওয়ার পর থেকেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের মন্ত্রিত্ব নিয়ে চাপ বাড়ছিল। ছাত্র সংগঠনগুলো তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছিল। দীর্ঘ আন্দোলনের পর অবশেষে তিনি পদত্যাগ করেন। কৈলাশ বিজয়বর্গীয়ের দাবি অনুসারে, প্রধান প্রথম থেকেই দায়িত্ব নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা বিজেপির অভ্যন্তরীণ গতিবিধি নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

আরও দেখুনঃ CISF র অভিযানে ব্যর্থ কয়লা চুরি! ৬ দিনের ধরপাকড়ে জালে ৫ কয়লা মাফিয়া

একদিকে মন্ত্রীর পদত্যাগ, অন্যদিকে বিদেশি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ দুটোই বিরোধীদের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছে। বিরোধীরা বলছে, “প্রশ্নফাঁস রোধ করতে ব্যর্থ হয়ে এখন ষড়যন্ত্রের গল্প বলা হচ্ছে।”অন্যদিকে, বিজেপি নেতারা প্রধানের পদত্যাগকে ‘নৈতিক দায়িত্ববোধ’ বলে সমর্থন করছেন। তাঁরা বলছেন, মন্ত্রী হিসেবে তিনি পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।