নাসা-ইসরোর স্যাটেলাইটের বড় সাফল্য! অ্যান্টার্কটিকার বরফের মধ্যে দেখা মিলল বিশাল ‘দৈত্যাকার পাখির’

নাসা-ইসরো-র সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার (NISAR) উপগ্রহ পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার একটি চমৎকার ছবি তুলেছে, যেখানে বরফাচ্ছাদিত ভূখণ্ডে ডানা-মেলা এক বিশাল পাখির মতো আকৃতি ফুটে উঠেছে। নিসার (NISAR)-এর…

NISAR

নাসা-ইসরো-র সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার (NISAR) উপগ্রহ পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার একটি চমৎকার ছবি তুলেছে, যেখানে বরফাচ্ছাদিত ভূখণ্ডে ডানা-মেলা এক বিশাল পাখির মতো আকৃতি ফুটে উঠেছে। নিসার (NISAR)-এর বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘হামিংবার্ড’। অসাধারণ আকৃতির এই বিষয়টি কোনো আসল পাখি নয়; বরং এটি পাহাড়, বরফ এবং রাডার প্রযুক্তির এক অনন্য সংমিশ্রণ, যা পৃথিবীর বরফাচ্ছাদিত মহাদেশটি সম্পর্কে গোপন তথ্য উন্মোচন করে।

NISAR উপগ্রহ দ্বারা ধারণ করা এই বৈশিষ্ট্যটি আসলে কী?
এই বৈশিষ্ট্যটি হলো পূর্ব অ্যান্টার্কটিক বরফ চাদরের উপরে উঠে আসা একটি পাথুরে পর্বতশৃঙ্গ, যা বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় ‘Nunatak Zaterzavshijja’ নামে পরিচিত। বরফের মধ্য দিয়ে জেগে থাকা এমন পর্বতচূড়াকে ‘নুনাটক’ (nunataks) বলা হয়। হিমবাহ যখন উত্তর-পূর্ব দিকে সমুদ্রের অভিমুখে প্রবাহিত হয়, তখন এই উঁচু পর্বতটি তাদের গতির পথে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে, এর চারপাশে চলমান বরফের ওপর প্রচণ্ড চাপের সৃষ্টি হয়।

Advertisements

২০২৫ সালের আগস্ট মাসে NISAR-এর উন্নত L-ব্যান্ড রাডারের মাধ্যমে ধারণ করা এই ছবিতে ‘নুনাটক জাটারজাভশিজিয়া’ (Nunatak Zaterzavshizya)-কে দেখা যাচ্ছে। পাথুরে পাহাড়ের এই চূড়াটি অ্যান্টার্কটিকার বিশাল বরফের আস্তরণ থেকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। হিমবাহগুলো যখন উত্তর-পূর্ব দিকে সমুদ্রের অভিমুখে অগ্রসর হয়, তখন এই পর্বতটি একটি প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে এবং এর পাশ দিয়ে প্রবাহিত বরফের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে।

ছবিটিতে থাকা রঙগুলো কী নির্দেশ করে?
নাসা (NASA) ও ইসরো (ISRO) জানিয়েছে যে, সূর্যের আলোর পরিবর্তে মাইক্রোওয়েভ সংকেত ব্যবহার করে এই ছবিটি তোলা হয়েছে, যা বিভিন্ন ধরনের বরফের পৃষ্ঠতলের মধ্যকার পার্থক্যগুলো ফুটিয়ে তোলে। সাধারণ উপগ্রহ বা ক্যামেরার মাধ্যমে দেখলে পুরো এলাকাটিকে কেবল সাদা বরফ বলেই মনে হয়, কিন্তু NISAR-এর রাডার প্রযুক্তি এটিকে বিভিন্ন রঙে ফুটিয়ে তোলে। এই রঙগুলো মূলত মসৃণ পৃষ্ঠতল থেকে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসা সংকেতকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে, সাদা অংশগুলো গভীর ফাটল এবং অমসৃণ এলাকাকে বোঝায়, যেখানে বরফের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর ওপর আঘাত করার ফলে রাডার তরঙ্গগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

বিজ্ঞানীদের কাছে এই ছবিটি কেন তাৎপর্যপূর্ণ?
এই ছবিটি কেবল একটি শিল্পকর্ম নয়; এটি ‘নিসার’ (NISAR) উপগ্রহের অভূতপূর্ব সক্ষমতার এক অনন্য নিদর্শন। মেঘ, ঘন ধোঁয়া এবং অ্যান্টার্কটিকার ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্য দিয়েও পর্যবেক্ষণ চালানোর যে ক্ষমতা এর রয়েছে, তা বিজ্ঞানীদের হিমবাহের গতিবিধি, বরফের স্তরের স্থিতিশীলতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা লাভে সহায়তা করবে।