বাবান আদক, কলকাতা: ময়দানের ঘাসে কান পাতলে এখনও যে আবেগ আর আভিজাত্যের চিরন্তন লড়াইয়ের স্পন্দন শোনা যায়, তার শিকড় ঠিক কত গভীরে, তা আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। স্পেনীয় ফুটবলের সঙ্গে তিনি সরাসরি জুড়ে দিলেন গড়ের মাঠের উন্মাদনাকে। তাঁর মতে, স্পেনের মাদ্রিদ ডার্বি আর কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গল ডার্বির আবেগ এবং গুরুত্ব কার্যত একই বিন্দুতে দাঁড়িয়ে।
পোড়খাওয়া মস্তিষ্কের অধিকারী হাবাস খুব ভালো করেই জানেন, ডার্বি কেবল নব্বই মিনিটের ফুটবল ম্যাচ নয়, এটি সমাজ ও সংস্কৃতির এক অদৃশ্য লড়াই। সম্প্রতি এক কথোপকথনে আইএসএল-এর অন্যতম সফল এই স্প্যানিশ কোচ জানিয়েছেন, “বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু আমি খেলেছি অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে। মোহনবাগান আর ইস্টবেঙ্গলের লড়াইটাও ঠিক সেই রকম।” নিজের পুরোনো স্প্যানিশ ক্লাবের সঙ্গে লাল-হলুদ শিবিরের এক আশ্চর্য সাযুজ্য খুঁজে পেয়েছেন তিনি। হাবাসের স্পষ্ট কথা, “আমি অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে খেলেছি, এখানকার ইস্টবেঙ্গল ঠিক তেমনই। যদিও এখনকার পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা।”
Also Read | দলবদলের বাজারে বড় চমক! ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে পুরনো ডেরা ওড়িশাতে নন্দকুমার
ফুটবল মহলের মতে, হাবাসের এই তুলনামূলক বিশ্লেষণের নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর ফুটবল দর্শন ও মনস্তত্ত্ব। স্পেনে রিয়াল মাদ্রিদ যেমন বনেদি আভিজাত্য ও রাজকীয়তার প্রতীক, মোহনবাগানও ভারতীয় ফুটবলে ঠিক সেই জায়গাতেই অবস্থান করে। অন্যদিকে, সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করা এবং হার না মানা মানসিকতার জন্য অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ বিশ্ববন্দিত। সেই একই ‘নেভার-সে-ডাই’ স্পিরিট বা আপসহীন লড়াইয়ের মানসিকতাই তো ইস্টবেঙ্গলের জন্মলগ্ন থেকে তাদের ডিএনএ-তে মিশে রয়েছে। হাবাসের এই নিখুঁত মূল্যায়ন কেবল দুই শহরের ভৌগোলিক দূরত্বই ঘোচায়নি, বরং কলকাতার ডার্বির আবেগকে বিশ্বজনীন ফুটবল মানচিত্রে ফের একবার সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত করল।
Also Read | হাসপাতালে পরিণত টিম ইন্ডিয়া! বড় তদন্তে নামছে BCCI




