বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় ওঠার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ ছিল গগনচুম্বী। ঘরের মাঠ চেন্নাইয়ে তিনিই ছিলেন আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা যে এতটা রূঢ় হবে, তা বোধহয় অতিবড় দাবাপ্রেমীও দুঃস্বপ্নে ভাবেননি। চেন্নাই গ্র্যান্ড মাস্টার্সের ৬৪ খোপের যুদ্ধে কার্যত দিশেহারা দেখাল ডি গুকেশকে। টুর্নামেন্ট জুড়ে চরম হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর মাত্র ২ পয়েন্ট পেয়ে টেবিলের একেবারে তলানিতে (‘উডেন স্পুন’) থেকে অভিযান শেষ করলেন তিনি।
কেন এমন অকাল-পতন? দাবা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভরাডুবির নেপথ্যে মূলত দু’টি কারণ কাজ করেছে তীব্র মানসিক চাপ এবং সময় ব্যবস্থাপনা। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে কম রেটিংধারী দাবারু এম প্রণেশের কাছে অপ্রত্যাশিত হার গুকেশের আত্মবিশ্বাসে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছিল। টুর্নামেন্টের শেষের দিকে সেই ধাক্কা সামলে ওঠার বদলে আরও বেশি গুটিয়ে যান তিনি। শেষ রাউন্ডে মার্কিন গ্র্যান্ডমাস্টার হান্স নিমানের বিরুদ্ধেও চেনা ছন্দে পাওয়া যায়নি তাঁকে। মাত্র ১৯ চালে দ্রুত ড্র মেনে নিয়ে কোনওরকমে ২৭০০-রেটিং ক্লাবের পতন থেকে নিজেকে রক্ষা করেন ২০ বছর বয়সি এই তারকা।
যেখানে ফরাসি গ্র্যান্ডমাস্টার আলিরেজা ফিরোউজা গোটা সপ্তাহে অপরাজিত থেকে ৪.৫ পয়েন্ট নিয়ে অনায়াসেই সেরার সিংহাসন দখল করলেন, সেখানে গুকেশ যেন প্রতিটা চালে ঘুঁটি সাজাতেই রীতিমতো হাঁপিয়ে উঠছিলেন। স্বদেশি তারকা অর্জুন এরিগাইসিও শেষ দিন পর্যন্ত লড়াইয়ে থেকে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। কিন্তু গুকেশ বারবার খেই হারিয়েছেন অত্যন্ত সহজ পজিশনেও।
বিশ্বচ্যাম্পিয়নের তকমা শুধু গৌরবই আনে না, সঙ্গে নিয়ে আসে পাহাড়প্রমাণ প্রত্যাশার চাপ। চেন্নাইয়ের এই মেগা-মঞ্চ যেন সেটাই নতুন করে প্রমাণ করে দিল। ঘরের মাঠে এই ভরাডুবি নিশ্চিতভাবেই গুকেশের কাছে একটি কড়া সতর্কবার্তা। আগামী দিনে বিশ্বমঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে হলে, এখন থেকেই আত্মবিশ্লেষণে বসতে হবে ভারতের এই প্রতিভাবান দাবারুকে।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা





