পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট নিয়ে আলোচনার জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যের অন্যতম বিষয় ছিল ক্যাগ-এর রিপোর্ট এবং রাজ্যে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সরকারের অবস্থান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ক্যাগের রিপোর্টে যেখানে যেখানে অনিয়ম বা দুর্নীতির উল্লেখ থাকবে, সেখানে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, আগামী ২৫ তারিখ ক্যাগের রিপোর্ট পেশ করা হবে। পরবর্তী অধিবেশনে সেই রিপোর্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তাঁর দাবি, ক্যাগ যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বা অনিয়মের বিষয় চিহ্নিত করবে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্যপালের কাছে সুপারিশ করা হবে। তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি যত বড় নেতা বা মন্ত্রীই হোন না কেন, আইন নিজের পথে চলবে। প্রয়োজন হলে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আমফান দুর্নীতির প্রসঙ্গও এদিন বিধানসভায় তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, ঘূর্ণিঝড় আমফানের সময় কেন্দ্রীয় সরকার দুই দফায় রাজ্যকে বিপুল আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল। কিন্তু সেই ত্রাণ ও অর্থ বণ্টন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এই বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয় এবং আদালতের নির্দেশে বিশেষ ক্যাগ তদন্তের বিষয়টি সামনে আসে। তাঁর অভিযোগ, সেই তদন্তের রিপোর্ট এখনও বিধানসভায় পেশ করা হয়নি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, আমফান সংক্রান্ত বিশেষ ক্যাগ রিপোর্ট বিধানসভায় আলোচনার জন্য আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিশেষ অধিবেশন বসানোর জন্য রাজ্যপালের কাছে অনুরোধ করা হবে বলেও তিনি জানান। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা অতীতে বড় বড় রাজনৈতিক ভাষণ দিয়েছেন, তাঁদের কাজের হিসাবও সামনে আনা হবে। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তিকেই রেহাই দেওয়া হবে না বলে তিনি বার্তা দেন।
এদিন ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) নিয়েও বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সেই কমিটির রিপোর্ট শীঘ্রই আসবে। রিপোর্ট পাওয়ার পরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেও তিনি জানান।
বিধানসভায় তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন কমিশন ও সংস্থাকে আগের সরকার কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল। তাঁর দাবি, আগামী ১ অগস্ট থেকে এই সংস্থাগুলি সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করবে। মানুষের অভিযোগ গ্রহণ করা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া—সব ক্ষেত্রেই এগুলি দায়িত্ব পালন করবে বলে তিনি জানান।





