শিলিগুড়ি: সিকিমের নামচি জেলায় নির্মীয়মাণ NHPC-র তিস্তা স্টেজ-VI জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২০। এখনও নিখোঁজ কয়েকজন শ্রমিকের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চলছে। দুর্ঘটনার সময় টানেলের ভিতরে মোট ২৭ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন কোনওভাবে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন, বাকিদের উদ্ধারে শুরু হয় তল্লাশি।
উদ্ধারকারী দল এখনও পর্যন্ত ২০টি দেহ উদ্ধার করেছে। তার মধ্যে ১৩ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
উত্তরবঙ্গের ১১ জনের মৃত্যু
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ৯ জন জলপাইগুড়ি জেলার এবং ২ জন আলিপুরদুয়ার জেলার বাসিন্দা। এছাড়া একজন পঞ্জাব এবং একজন সিকিমের বাসিন্দার মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত হয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন কেরলের ৪৩ বছর বয়সী ভূতত্ত্ববিদ অনীশ মোহন। বাকি নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
সোমবার দুপুরে নামচির সামারডুং-ঝোলুঙ্গে এলাকায় নির্মীয়মাণ টানেলের ভিতরে হঠাৎ বিস্ফোরণের পর ধস নামে। NHPC-র প্রাথমিক অনুমান, পাথরের স্তরের ভিতরে জমে থাকা মিথেন গ্যাস ফেটে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটে। এর ফলে টানেলের ভিতরে বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরই জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থা চালু করা হলেও টানেলের ভিতরে মিথেন গ্যাসের উপস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজে বাধা তৈরি হচ্ছে।
তদন্তে SIT
সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং (গোলে) জানিয়েছেন, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হবে।
এটি ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে উত্তরাখণ্ডের সিলকিয়ারা টানেল ধসের পর হিমালয় অঞ্চলে সবচেয়ে বড় টানেল দুর্ঘটনাগুলির একটি বলে মনে করা হচ্ছে।
ক্ষতিপূরণ ঘোষণা
সিকিম সরকার মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মৃত শ্রমিকদের নিকটাত্মীয়দের জন্য ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নজর
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক মাধ্যমে জানান, দুর্ঘটনার পর তিনি সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন।
তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিব নিয়মিত সিকিম প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন। উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার সুজাতা কুমারী ভেনাপানি জানিয়েছেন, নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের দুর্ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত জেলাশাসক (ADM) এবং ডিএসপি (ট্রাফিক) ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। কালিম্পংয়ের এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারও উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে রয়েছেন।
রাষ্ট্রপতির শোকবার্তা
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে নিখোঁজ শ্রমিকদের দ্রুত ও নিরাপদ উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করেছেন। উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে এবং প্রশাসনের আশা, বাকি শ্রমিকদেরও দ্রুত খুঁজে পাওয়া যাবে।





