সাড়ে তিন মাসেই শেষ বার্ষিক বরাদ্দের ৪০%, বাড়তে পারে সার ভর্তুকির বোঝা

নয়াদিল্লি: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম সাড়ে তিন মাসেই সার ভর্তুকি (Fertiliser Subsidy) বাবদ ৭০,৭০৯ কোটি টাকা খরচ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এটি চলতি বছরের মোট বরাদ্দের…

fertiliser-subsidy-spending-rises-40-percent-in-first-three-and-half-months

নয়াদিল্লি: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম সাড়ে তিন মাসেই সার ভর্তুকি (Fertiliser Subsidy) বাবদ ৭০,৭০৯ কোটি টাকা খরচ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এটি চলতি বছরের মোট বরাদ্দের প্রায় ৪০ শতাংশ। কেন্দ্রের দাবি, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছরে ভর্তুকির মোট ব্যয় বাজেট অনুমানের তুলনায় বেশি হতে পারে। রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় সার দফতর (Department of Fertilizers) এই তথ্য জানিয়েছে।

২০২৬-২৭ সালে কত বরাদ্দ?

চলতি অর্থবর্ষে সার ভর্তুকির জন্য কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রায় ১.৮ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে সরকারি সূত্রের মতে, গত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সংশোধিত বাজেটে প্রায় ১.৯ লক্ষ কোটি টাকা ধরা হলেও প্রকৃত ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল প্রায় ২.২ লক্ষ কোটি টাকা।
এ বছর আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম এখনও তুলনামূলকভাবে বেশি থাকায় ভর্তুকির ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Advertisements

কেন বাড়ছে ভর্তুকির চাপ?

কেন্দ্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে সারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশের উপর নির্ভরতা কমাতে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশনের মাধ্যমে নতুন সরবরাহকারী খোঁজা হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো সারের সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং দেশের কৃষকদের সময়মতো পর্যাপ্ত সার পৌঁছে দেওয়া।
কেন্দ্রের দাবি, ভর্তুকির ব্যয় মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত অর্থের ব্যবস্থা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার দাম এখনও বেশি

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার দাম প্রতি টন ৫৭২ মার্কিন ডলার ছিল। এটি ২০২৫ সালের জুনের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি।

তবে চলতি বছরের মে মাসের তুলনায় দাম প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে, যা কিছুটা স্বস্তি দিলেও সামগ্রিকভাবে মূল্য এখনও উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে।
এক সরকারি আধিকারিকের মতে, দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চললেও বর্তমান প্রবণতা অনুযায়ী চলতি অর্থবর্ষে সার ভর্তুকির মোট ব্যয় বাজেটে নির্ধারিত অঙ্ক ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কৃষকদের জন্য দাম অপরিবর্তিত

আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বাড়লেও কৃষকদের জন্য ইউরিয়ার খুচরো মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।  বর্তমানে ৪৫ কেজির এক বস্তা ইউরিয়ার দাম ২৬৬.৫০ টাকা, যা মার্চ ২০১৮ থেকে একই রয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারদরে একই পরিমাণ ইউরিয়ার মূল্য ৪,০০০ টাকারও বেশি।

একইভাবে ৫০ কেজির এক বস্তা DAP (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট)-এর খুচরো মূল্যও ১,৩৫০ টাকা রাখা হয়েছে, যাতে কৃষকদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে।

কৃষকদের স্বার্থে ভর্তুকি অব্যাহত

আন্তর্জাতিক বাজারে সারের মূল্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও কৃষকদের নির্ধারিত দামে সার সরবরাহ বজায় রাখতে কেন্দ্র ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। তবে চলতি অর্থবর্ষে বৈশ্বিক বাজারের পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে সার ভর্তুকির মোট ব্যয় বাজেটের প্রাথমিক অনুমান ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সরকারি সূত্রের ইঙ্গিত।