বিশ্বকাপ হারের পর এবার বড় ধাক্কা! প্রিমিয়ার লিগ থেকেও ছিটকে যেতে পারেন মেসির সতীর্থরা

Falklands banner backlash: বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর মাঠের লড়াই যেন গড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক বিতর্কে। আর্জেন্টিনা দলের কয়েকজন ফুটবলারের একটি ব্যানার হাতে উদযাপন ঘিরে শুরু…

Argentina

Falklands banner backlash: বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর মাঠের লড়াই যেন গড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক বিতর্কে। আর্জেন্টিনা দলের কয়েকজন ফুটবলারের একটি ব্যানার হাতে উদযাপন ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সেই ঘটনার জেরেই এবার ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবছে বলে একাধিক সূত্রের দাবি। এমনকি ইংল্যান্ডে খেলা আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের ভিসা বাতিলের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত সেমিফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পর। জয় উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার একটি ব্যানার হাতে মাঠে নামেন। সেখানে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের আর্জেন্টিনার মালিকানা দাবি করে বার্তা লেখা ছিল। আর্জেন্টিনায় এই দ্বীপপুঞ্জকে ‘লাস মালভিনাস’ নামে ডাকা হয়। ব্যানারে মূলত সেই দাবিকেই তুলে ধরা হয়েছিল। বিষয়টি কেবল ক্রীড়া উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সরকার ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। জানা গিয়েছে, ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্রিটিশ প্রশাসনও নিজেদের আইনি অবস্থান খতিয়ে দেখতে আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। উদ্দেশ্য, খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কোনও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব কি না, তা যাচাই করা।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। বর্তমানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, চেলসির এনজো ফার্নান্ডেজ এবং টটেনহ্যামের ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে খেলছেন। অভিযোগ, এই তিনজনও বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন। তাই তাঁদের ব্রিটিশ ভিসা বাতিলের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে জানা যাচ্ছে।

ব্রিটিশ প্রশাসনের একাংশের মতে, ইংল্যান্ডে পেশাদার ফুটবল খেলে বিপুল অর্থ উপার্জন করার পাশাপাশি একই দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এই কারণেই কড়া পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। ইংল্যান্ডের বহু সমর্থকও সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ফুটবলারদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত। অন্যথায় কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয় বলেই মনে করছেন অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের মতে, শুধুমাত্র একটি ব্যানার হাতে মাঠে নামার অভিযোগে কোনও বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা আইনি দিক থেকে অত্যন্ত কঠিন। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হলে শক্তিশালী আইনি ভিত্তি প্রয়োজন। তাই শেষ পর্যন্ত এমন পদক্ষেপ আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার বিরোধ বহু দশকের পুরনো। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপপুঞ্জের দখল নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। সেই যুদ্ধে ব্রিটেন জয়ী হলেও আর্জেন্টিনা এখনও দ্বীপটির ওপর নিজেদের দাবি ছাড়েনি। ফলে বিষয়টি দুই দেশের কাছেই অত্যন্ত স্পর্শকাতর।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার জয়ের পর মাঠে যে ঘটনা ঘটেছে, তা সেই পুরনো বিরোধকেই আবার সামনে এনে দিয়েছে। ম্যাচ শেষে দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও সামনে আসে। তার মধ্যেই রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার নিয়ে উদযাপন বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দেয়।

এখন নজর ফিফা এবং ব্রিটিশ প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তদন্তে কী সিদ্ধান্ত হয়, কিংবা প্রিমিয়ার লিগে খেলা আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের বিরুদ্ধে সত্যিই কোনও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটাই দেখার। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, ফুটবল মাঠের একটি উদযাপন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিতর্কের রূপ নিয়েছে এবং তার প্রভাব মাঠের বাইরেও দীর্ঘদিন ধরে অনুভূত হতে পারে।