জুন মাসে ৫.১৪ বিলিয়নের রুশ তেল কিনে রেকর্ড মোদী সরকারের

নয়াদিল্লি: জুন ২০২৬ মাসে ভারত (Russian Oil)রেকর্ড পরিমাণ রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। মোট ৫.১৪ বিলিয়ন ডলারের এই ক্রয় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মাসিক আমদানি বলে…

india-russian-oil-imports-june-2026

নয়াদিল্লি: জুন ২০২৬ মাসে ভারত (Russian Oil)রেকর্ড পরিমাণ রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। মোট ৫.১৪ বিলিয়ন ডলারের এই ক্রয় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মাসিক আমদানি বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কম থাকায় এবং রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কের কারণে এই বড় কেনাকাটা সম্ভব হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের জ্বালানি নীতি নয়াদিল্লিতেই নির্ধারিত হয়, ওয়াশিংটনে নয়।

ভারতীয় রিফাইনারিগুলো জুন মাসে রাশিয়া থেকে প্রচুর পরিমাণে সস্তা অপরিশোধিত তেল কিনেছে। এতে দেশের তেল আমদানির খরচ অনেকটাই কমেছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এই আমদানি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ওঠানামা করলেও রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল পাওয়ায় ভারতের অর্থনীতির ওপর চাপ কমেছে।

আরও দেখুনঃ ‘অনশন জারি থাকবে!’ স্পষ্ট করলেন সোনম

পেট্রোল-ডিজেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে এই কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি সংকট এড়ানো গেছে, অন্যদিকে রাশিয়াও নতুন বাজার পেয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের জ্বালানি নীতি দেশের স্বার্থ অনুসারে নির্ধারিত হয়।

কোনো বহিরাগত শক্তি এতে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।” এই মন্তব্য স্পষ্টতই আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সম্ভাব্য চাপের জবাব।জুন মাসের এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কম থাকায় এবং রাশিয়া ছাড় দিয়ে তেল সরবরাহ করায় ভারত লাভবান হয়েছে।

এতে দেশের বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডারও সুরক্ষিত থেকেছে। তবে পরিবেশবিদরা এই বড় আমদানিকে জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন। তাঁরা চান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে আরও জোর দেওয়া হোক।রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারত রুশ তেলের বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছে। এর ফলে চিনের পর ভারতই রাশিয়ার সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা।

এই বাণিজ্য দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করেছে। ভারত সরকার বলছে, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থই সবচেয়ে বড়। কোনো আন্তর্জাতিক চাপের কাছে মাথা নত করা হবে না।বিরোধী দলগুলো অবশ্য এই আমদানিকে নিয়ে সমালোচনা করছে। তাঁরা বলছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে পারে। কিন্তু সরকারি দলের নেতারা জবাব দিয়েছেন যে, জ্বালানি নিরাপত্তা কোনো রাজনৈতিক খেলার বিষয় নয়। এটি দেশের অর্থনীতি ও জনগণের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত।

আরও দেখুনঃ জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক আরশোলাদের, অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক