ইসলামাবাদ: কার্গিল যুদ্ধের বিজয় দিবসের ঠিক আগে পাকিস্তানের প্রভাবশালী (Kargil War)রাজনীতিক ও সংসদ সদস্য মাওলানা ফজল-উর-রহমান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাদের সৈন্যদের মৃত্যুর সংখ্যা গোপন করেছিল এবং এখনও পর্যন্ত শহিদদের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করেনি।
তাঁর অভিযোগ, এই যুদ্ধে শত শত পাকিস্তানি সৈন্য প্রাণ হারিয়েছিলেন, কিন্তু সেনাবাহিনী এবং সরকার এখনও সত্যটা জনগণের কাছে স্বীকার করেনি।ফজল-উর-রহমান জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম (এফ) দলের প্রধান। পাকিস্তানের রাজনীতিতে তিনি একজন প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর। সম্প্রতি এক জনসভায় তিনি বলেন, “কার্গিল যুদ্ধে আমাদের অনেক সৈন্য শহিদ হয়েছেন।
আরও দেখুনঃ দিল্লিকে অশান্ত করে তুলতে আরশোলার সঙ্গে রাজপথে পাঞ্জাবের কৃষকরা
কিন্তু সেনাবাহিনী তাঁদের সংখ্যা এবং নাম গোপন রেখেছে। জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। কেন এখনও তালিকা প্রকাশ করা হয়নি?” তাঁর এই মন্তব্য পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধ ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের একটি কালো অধ্যায়। ভারতীয় সেনাবাহিনী অপারেশন বিজয় চালিয়ে দখলদারদের হটিয়ে দেয় এবং কার্গিলকে মুক্ত করে।
ভারতের পক্ষে এটি বড় বিজয়। প্রতি বছর ২৬ জুলাই কার্গিল বিজয় দিবস পালন করা হয়। পাকিস্তান অবশ্য এই যুদ্ধে নিজেদের সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেনি। তারা বলে, এটি ছিল কাশ্মীরি মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াই। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহল এবং পরবর্তীকালে পাকিস্তানি সূত্রগুলো স্বীকার করে যে, পাক সেনাবাহিনীর নিয়মিত সৈন্যরা এতে অংশ নিয়েছিল।
আরও দেখুনঃ সংসদ অভিযানের ডাক ঘিরে রণক্ষেত্র দিল্লি, লাঠিচার্জ-কাঁদানে গ্যাসে উত্তপ্ত রাজধানী
ফজল-উর-রহমানের অভিযোগ অনুসারে, যুদ্ধে পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি ছিল। তিনি বলেন, শহিদ সৈন্যদের পরিবারগুলো এখনও ন্যায়বিচার পায়নি। তাঁদের ক্ষতিপূরণ এবং সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা হয়নি। এই মন্তব্যের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সমর্থকরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, এটি সেনাবাহিনীকে অপমান করার চেষ্টা। অন্যদিকে, বিরোধী নেতারা ফজল-উর-রেহমানের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, সরকারের উচিত অবিলম্বে শহিদদের তালিকা প্রকাশ করা।





