তৃতীয় স্থানের ম্যাচ খেলতে চান না , সে কথা বিন্দুমাত্র রাখঢাক না করেই জানিয়ে দিলেন দিদিয়ের দেশঁ! ফুটবল বিশ্বকাপের (World Cup ) মঞ্চে তৃতীয় স্থান নির্ণায়ক ম্যাচটি বরাবরই এক অদ্ভুত হতাশার। ফাইনালের টিকিট হাতছাড়া হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা বুকে চেপে নিয়মরক্ষার এই ম্যাচে মাঠে নামাটা যে কোনও দলের কাছেই মানসিক ক্লান্তির। স্পেনের কাছে ০-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন চুরমার হওয়ার পর ফরাসি শিবিরেও এখন সেই একই হতাশা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে সেই কথাটাই অকপটে স্বীকার করে নেন ফরাসি কোচ।
দেশঁ বলেন, “এই ম্যাচে আমার একটা কর্তব্য আছে। এটা নিছক কোনও প্রীতি ম্যাচ নয়, তৃতীয় স্থান নির্ণায়ক ম্যাচ। প্লেয়ার, স্টাফ এবং আমার কর্তব্য শেষপর্যন্ত পৌঁছনো। ইংল্যান্ড এই ম্যাচ খেলতে চায় না, আমরাও চাই না। কিন্তু কিছু করার নেই।”
তবে ব্যক্তিগত বা দলীয় হতাশা যাই থাক, দেশের জার্সির ওজন এবং দায়িত্ববোধ যে কতখানি, তা একজন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এবং কোচের চেয়ে ভালো কেই বা বোঝেন! বিদায়ী বেলায় আবেগতাড়িত দেশঁ তাই মনে করিয়ে দিয়েছেন সেই জাতীয় কর্তব্যের কথাই।
আরও পড়ুন: নন্দনের বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফাইনাল, মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিশেষ আয়োজন
ফরাসি কোচের কথায়, “দেশের জার্সি গায়ে চাপালেই চোখের সামনে লক্ষ্য স্পষ্ট হয়ে যায়। আমাদের তৃতীয় স্থানে শেষ করার চেষ্টা করতে হবে। মাথায় আছে এটাই আমার শেষ ম্যাচ। আমি চাই না কেউ কাঁদুক। শেষ এগিয়ে এসেছে, কিন্তু জীবন চলমান।”
দেশঁর এই ১৪ বছরের জমানায় ফ্রান্স আধুনিক ফুটবলে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। তাই গুরুর বিদায়ী বেলায় শিষ্যরাও ভীষণ আবেগপ্রবণ। ফরাসি ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কন্তেও কোচের সুরে সুর মিলিয়ে জানিয়েছেন, সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর এই ম্যাচটি খেলার মতো মানসিকতা তাঁদের সত্যিই নেই। কিন্তু শুধুই বিদায়ী কোচের হাতে একটি ব্রোঞ্জ পদক তুলে দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবেন তাঁরা।
আরও পড়ুন: পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব




