মেসির জাদুতে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা

বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: চরম নাটকীয়তা, রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা এবং আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। ২০২৬ বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) সেমিফাইনালে এক গোলে পিছিয়ে থেকেও…

fifa-world-cup-2026-argentina-vs-england-messi-reaches-final

বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: চরম নাটকীয়তা, রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা এবং আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। ২০২৬ বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) সেমিফাইনালে এক গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ দশ মিনিটের কালবৈশাখীতে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিল আর্জেন্টিনা। খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলে শেষ লগ্নে জোড়া অ্যাসিস্ট করে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিলেন সেই লিয়োনেল মেসি। আর তাঁর নিখুঁত পাস থেকে গোল করে ইংরেজদের স্বপ্নভঙ্গ করলেন এনজো ফার্নান্দেজ এবং পরিবর্ত হিসেবে নামা লাউতারো মার্টিনেজ।

ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই মাঝমাঠের দখল নেওয়ার লড়াইয়ে হাড্ডাহাড্ডি টক্কর চলছিল দু’দলের মধ্যে। ইংল্যান্ডের হাই প্রেসিং ফুটবলের সামনে শুরুতে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। একটি গোল হজম করার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই মরিয়া হয়ে ওঠে লিয়োনেল স্কালোনির দল। বল পজেশন নিজেদের পায়ে রেখে ক্রমাগত উইং দিয়ে আক্রমণ শানাতে থাকে তারা। ৬৭ মিনিটের পর থেকে ম্যাচের লাগাম পুরোপুরি আর্জেন্টিনার হাতে চলে আসতে শুরু করে। নিকোলাস তালিয়াফিকো এবং নিকো গঞ্জালেসরা বাঁ প্রান্ত দিয়ে ইংল্যান্ডের বক্সে চাপ বাড়াতে থাকেন।

আরও পড়ুন: পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলাতে ৭২ মিনিটে বড়সড় ট্যাকটিকাল পরিবর্তন করেন স্কালোনি। নাহুয়েল মোলিনা, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং জিওভানি সিমিওনেকে তুলে নিয়ে তিনি মাঠে নামান গঞ্জালো মন্তিয়েল, নিকোলাস ওটামেন্ডি এবং রদ্রিগো ডি পলকে। এই পরিবর্তনগুলোই ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বদলে দেয়। ডি পল মাঠে নেমেই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেন। ৭৬ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ডি পলের নিখুঁত ক্রস থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের নেওয়া জোরালো হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে হুলিয়ান আলভারেজের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং ম্যাক অ্যালিস্টারের দ্বিতীয় হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন ইংরেজ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।

আরও পড়ুন: অভিষেকের জন্যই জেলে যেতে হয়েছে! বিস্ফোরক অনুব্রত, সুর মেলালেন মদন

তবে আসল চমকটি তোলা ছিল শেষ দশ মিনিটের জন্য। ৮১ মিনিটে ডিফেন্ডার তালিয়াফিকোকে তুলে নিয়ে স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজকে মাঠে নামিয়ে ‘অল আউট অ্যাটাক’-এ যায় আর্জেন্টিনা। ঠিক সেই সময়েই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ইংল্যান্ডের ফুলব্যাক রিস জেমস, যা ইংরেজদের রক্ষণভাগকে কিছুটা নড়বড়ে করে দেয়। অবশেষে ৮৫ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সমতা ফেরায় লাতিন আমেরিকার দল। একটি কর্নার থেকে বক্সের ঠিক বাইরে বল পান মেসি। তাঁর সাজিয়ে দেওয়া বল থেকে এনজো ফার্নান্দেজের নেওয়া মাপা ডানপায়ের জোরালো শট জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে জালের কোণায় আশ্রয় নেয় (১-১)।

সমতা ফেরার পর ইংরেজ শিবিরে তখন চূড়ান্ত হতাশা এবং ছন্নছাড়া ভাব। ৮৮ মিনিটে সেন্টার ব্যাক জন স্টোনস চোট পেলে ইংল্যান্ডের রক্ষণ আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। চতুর্থ রেফারি ৯ মিনিট ইনজুরি টাইম ঘোষণা করার পর, ম্যাচের ৯২ মিনিটে (৯০+২’) আসে সেই চূড়ান্ত মুহূর্ত। বক্সের বাইরে থেকে মেসির ভাসানো নিখুঁত ক্রস সোজা উড়ে আসে আনমার্কড লাউতারো মার্টিনেজের কাছে। অত্যন্ত কাছ থেকে নেওয়া তাঁর হেডার সোজা জালে জড়িয়ে যায় (২-১)। এরপর মরিয়া হয়ে ইভান টোনি এবং মার্কাস রাশফোর্ডকে নামিয়েও শেষরক্ষা করতে পারেনি ইংল্যান্ড।

এই রুদ্ধশ্বাস জয় আর্জেন্টিনাকে ফের একবার বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে দিল। অন্যদিকে, হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ ফসকে যাওয়ায় আরও একবার সেমিফাইনাল থেকে চোখের জলে বিদায় নিতে হলো ইংল্যান্ডকে। লিয়োনেল মেসি এদিন গোল না পেলেও, প্লে মেকার হিসেবে তাঁর অসামান্য ভিশন এবং গেম রিডিং যে এখনও বিশ্বের সেরা, তা তিনি প্রমাণ করে দিলেন। তবে, প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার অগোছালো রক্ষণভাগ এবং বেশ কিছু ফিনিশিংয়ের অভাব স্কালোনির জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে। ফাইনালে এই ছোটখাটো ভুলগুলো শুধরে নিয়ে বিশ্বজয়ের মুকুট ধরে রাখার লক্ষ্যেই এবার মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।