Know Your Rights: কোনও পুলিশি অভিযান বা রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে কারও কথোপকথনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলেই একটি প্রশ্ন সামনে আসে, পুলিশকে ভিডিও করা কি আইনত বৈধ? অনেকের ধারণা, পুলিশকে ক্যামেরাবন্দি করা বেআইনি। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। ভারতে জনসমক্ষে কর্তব্যরত পুলিশকে ভিডিও করা নিয়ে কোনও সাধারণ নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে সেই ভিডিও তোলা বা ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কিছু আইনি সীমাবদ্ধতা অবশ্যই রয়েছে।
জনসমক্ষে পুলিশকে ভিডিও করা কি বৈধ?
ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯(১)(এ) নাগরিককে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দেয়। আদালতের বিভিন্ন রায়ে এই অধিকারের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ ও জনস্বার্থে তা প্রকাশ করার বিষয়টিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তাই জনসমক্ষে কর্তব্যরত পুলিশকে নিরাপদ দূরত্ব থেকে ভিডিও করা সাধারণভাবে বেআইনি নয়, যতক্ষণ না তা পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে।
পুলিশ কি ভিডিও করতে বাধা দিতে পারে?
যদি কোনও তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেফতার বা সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় ভিডিও করার ফলে বাস্তবে পুলিশের কাজে বিঘ্ন ঘটে, তাহলে পুলিশ ভিডিও বন্ধ করতে বলতে পারে।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ধারা ২২১ অনুযায়ী, কোনও সরকারি কর্মীর কাজে ইচ্ছাকৃত বাধা দিলে শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে শুধুমাত্র দূর থেকে ভিডিও করা মানেই এই অপরাধ হয়েছে, এমন নয়।
Also Read | ঘড়ির বিজ্ঞাপনে প্রায় সবসময়ই ১০:১০ কেন দেখানো হয়? কারণ জানলে অবাক হবেন
পুলিশ কি আপনার মোবাইল কেড়ে নিতে পারে?
আইন অনুযায়ী, শুধুমাত্র পুলিশকে ভিডিও করেছেন বলে আপনার মোবাইল ফোন জব্দ করা যায় না।
ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ধারা ১০৬ অনুযায়ী, কোনও ইলেকট্রনিক ডিভাইস তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলে তবেই পুলিশ সেটি জব্দ করতে পারে। সেক্ষেত্রে জব্দের কারণ লিখিতভাবে নথিভুক্ত করতে হবে এবং ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে।
পুলিশ কি ভিডিও ডিলিট করতে বাধ্য করতে পারে?
না। আইন অনুযায়ী, বৈধভাবে ধারণ করা কোনও ভিডিও জোর করে মুছে ফেলতে পুলিশকে সাধারণ ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। বোম্বে হাই কোর্ট একাধিক মামলায় স্পষ্ট করেছে, শুধুমাত্র পুলিশ স্টেশনের ছবি বা ভিডিও তোলার জন্য Official Secrets Act ব্যবহার করে নাগরিককে হয়রানি করা আইনসঙ্গত নয়। আদালত এমন পদক্ষেপকে আইনের অপব্যবহার বলেও মন্তব্য করেছে।
Also Read | কুসংস্কার-রক্ষণশীলতার বেড়া ভেঙে ইতিহাসের পাতায় লাক্ষাদ্বীপের নাইটিঙ্গেল হিদুম্বি
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও আপলোড করলে কী হবে?
ভিডিও ধারণ করা এবং সেটি প্রকাশ করা এক বিষয় নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিডিও প্রকাশের সময় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
• মানহানিকর তথ্য থাকা চলবে না।
• কারও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা যাবে না।
• আইনে সুরক্ষিত কোনও ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না।
• চলমান তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারে, এমন তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়।
• সম্পাদনা করে বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ কী?
২০২০ সালে Paramvir Singh Saini বনাম Baljit Singh মামলায় সুপ্রিম কোর্ট দেশের প্রতিটি থানায় অডিও-সহ CCTV ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দেয়। উদ্দেশ্য ছিল হেফাজতে নির্যাতনের মতো অভিযোগ রোধ করা এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা।
আদালত বিভিন্ন মামলায় নাগরিকদের ধারণ করা ভিডিও ও CCTV ফুটেজকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবেও গ্রহণ করেছে।
কোন রাজ্যে রয়েছে বিশেষ আইন?
বর্তমানে কেরল পুলিশ আইন, ২০১১-এর ধারা ৩৩(২) স্পষ্টভাবে বলছে, কোনও ব্যক্তি যদি পুলিশের কাজে বাধা না দেন, তাহলে পুলিশ তাঁকে জনসমক্ষে বা ব্যক্তিগত জায়গায় পুলিশি কাজের ভিডিও করতে বাধা দিতে পারবে না।
অন্য কোনও রাজ্যে এখনও এ ধরনের স্পষ্ট বিধান নেই।
কী মনে রাখবেন?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসমক্ষে কর্তব্যরত পুলিশকে শান্তিপূর্ণভাবে এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ভিডিও করা সাধারণত বৈধ। তবে সেই ভিডিও যেন পুলিশের কাজে বাধা না দেয়, জাতীয় নিরাপত্তা বা চলমান তদন্তে প্রভাব না ফেলে এবং কারও আইনি অধিকার লঙ্ঘন না করে, সেদিকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে। অর্থাৎ, ভিডিও করা নয়, কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিই শেষ পর্যন্ত আইনি মূল্যায়নের মূল বিষয়।





