বাবান আদক, কলকাতা: কলকাতা ফুটবল লিগে নিজেদের ঘরের মাঠে রীতিমতো গোল উৎসব ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal )। বুধবার বিধাননগর স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিল লাল হলুদ ব্রিগেড। এই দাপুটে জয়ের মূল কারিগর তরুণ ফরোয়ার্ড পি ভি বিষ্ণু, যাঁর প্রথমার্ধের অনবদ্য হ্যাটট্রিকেই বিধাননগরের যাবতীয় প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে যায়।
ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিল ইস্টবেঙ্গল। প্রতিপক্ষের অর্ধে রীতিমতো ঘাঁটি গেড়ে বসে লাল হলুদ ফুটবলাররা। এই আধিপত্যের ফলও মেলে হাতেনাতে। ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটেই ডেডলক খোলেন পি ভি বিষ্ণু। বিধাননগর রক্ষণের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান তিনি। তবে এই লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গোল হজম করার পরেই প্রতি-আক্রমণে ওঠে বিধাননগর এবং ১৪ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের মুহূর্তের ভুলে সমতা ফেরান সুমিত মজুমদার। খেলার গতির বিরুদ্ধে আসা এই গোলটি সাময়িকভাবে ইস্টবেঙ্গলকে কিছুটা থমকে দিলেও, তা তাদের দমে যাওয়ার কারণ হয়নি।
Also Read | FIFA বিশ্বকাপে সুযোগ পেল ভারত! কাপ জেতার হুংকার রঞ্জিত বাজাজের
বরং এক গোল হজম করার পর ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠ আরও বেশি সংঘবদ্ধ হয়ে ওঠে। বল পজেশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দুই প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণ শানাতে থাকে তারা। দুর্দান্ত একটি ফ্রি-কিক থেকে আবারও গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বিষ্ণু। এরপর আক্রমণের ঝড় তোলে লাল হলুদ ব্রিগেড। জেসিন টিকে গোল করে ৩-১ করেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বিষ্ণু। তাঁর হ্যাটট্রিকের সুবাদে বিরতিতে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল।
Also Read | এশিয়ান অনূর্ধ্ব-২৩ অ্যাথলেটিক্সে ভারতের দাপট, ৩ সোনাসহ ১৬ পদক জয়
দ্বিতীয়ার্ধে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ইস্টবেঙ্গল কিছুটা খেলার গতি কমিয়ে পজিশনাল ফুটবলের দিকে নজর দেয়। মাঝমাঠে নিজেদের ব্লক নিশ্ছিদ্র করে বিধাননগরের আক্রমণগুলি মাঝপথেই রুখে দিতে থাকেন লাল-হলুদ মিডফিল্ডাররা। বল দখলে না থাকায় বিধাননগরের ফুটবলারদের মধ্যে ক্রমশ হতাশা বাড়তে থাকে, যার প্রভাব পড়ে তাদের রক্ষণাত্মক সংগঠনে। ৮১ মিনিটে সেই সুযোগটিকেই কাজে লাগান বিজয় মুর্মু। বক্সের ভিতর বিপক্ষ ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে দলের হয়ে পঞ্চম গোলটি করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৫-১ ব্যবধানে জিতে পুরো ম্যাচেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে ইস্টবেঙ্গল।





