মুম্বই: নতুন অর্থবর্ষ শুরু মানেই অনেক চাকরিজীবীর হাতে বাড়তি বেতন, ইনক্রিমেন্ট বা বোনাস। এই সময় অনেকেই নতুন মিউচুয়াল ফান্ড, SIP বা অন্য বিনিয়োগের পরিকল্পনা(Mutual Fund) করেন। তবে আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন বিনিয়োগ শুরু করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল বর্তমান বিনিয়োগ পোর্টফোলিও পর্যালোচনা এবং প্রয়োজন হলে রিব্যালান্স করা। কারণ সময়ের সঙ্গে আয়, আর্থিক লক্ষ্য, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা এবং বাজার পরিস্থিতি বদলে যায়। তাই পুরনো বিনিয়োগ এখনও আপনার লক্ষ্য অনুযায়ী রয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
কেন দরকার পোর্টফোলিও রিব্যালান্সিং?
বিনিয়োগের শুরুতে অধিকাংশ মানুষ একটি নির্দিষ্ট সম্পদ বণ্টন (Asset Allocation) ঠিক করেন। যেমন, ৭০ শতাংশ ইকুইটি এবং ৩০ শতাংশ ডেট ফান্ডে বিনিয়োগ।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন সম্পদের রিটার্ন একরকম থাকে না। ফলে যে পোর্টফোলিও ৭০:৩০ অনুপাতে শুরু হয়েছিল, তা কয়েক বছরের মধ্যে ৮০:২০ বা অন্য অনুপাতে চলে যেতে পারে। এতে ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক লক্ষ্যও প্রভাবিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পোর্টফোলিও রিব্যালান্সিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হল বিনিয়োগকে আবারও নির্ধারিত লক্ষ্য এবং ঝুঁকির মাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা।
Also Read | ফের সফল মোদী! দেশে অনুমোদন পেল ১,২৭৫০০ কোটির সেমিকন্ডাক্টর হাব
কীভাবে করবেন পোর্টফোলিও রিব্যালান্স?
প্রথমেই নিজের বর্তমান আর্থিক অবস্থার মূল্যায়ন করুন।
• আর্থিক লক্ষ্য বদলেছে কি?
• অবসরের সময় কি কাছাকাছি এসেছে?
• পরিবারে নতুন দায়িত্ব বেড়েছে?
• ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা আগের মতোই আছে?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর অনুযায়ী নতুন Asset Allocation নির্ধারণ করুন।
এরপর ইকুইটি, ডেট, সোনা, রিয়েল এস্টেটসহ সব বিনিয়োগের বর্তমান অনুপাত হিসাব করে লক্ষ্য অনুযায়ী তুলনা করুন।
যদি কোনও সম্পদের অনুপাত নির্ধারিত লক্ষ্যের তুলনায় ৫ থেকে ১০ শতাংশের বেশি এদিক-ওদিক হয়ে যায়, তাহলে সেখানে রিব্যালান্স করার প্রয়োজন হতে পারে।
কোন ক্ষেত্রে কী করবেন?
যে সম্পদে বিনিয়োগ কম রয়েছে, সেখানে নতুন অর্থ বিনিয়োগ করা যেতে পারে।
যে সম্পদে অতিরিক্ত বরাদ্দ রয়েছে, সেখানে নতুন বিনিয়োগ বন্ধ রাখা বা প্রয়োজনে কিছু অংশ বিক্রি করা যেতে পারে।
তবে শুধুমাত্র সাময়িক খারাপ রিটার্ন দেখে কোনও মিউচুয়াল ফান্ড পরিবর্তন করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ফান্ডকে দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্স, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগ কৌশলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত।
Also Read | মোদীই নিরাপদ! তাই ইউরেনিয়াম ব্রহ্মহাস্ত্র ভারতেই জানাল অস্ট্রেলিয়া
একই ধরনের একাধিক ফান্ডে বিনিয়োগ করবেন না
অনেক বিনিয়োগকারী জনপ্রিয়তার কারণে একই ধরনের একাধিক মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করেন। এতে প্রকৃত বৈচিত্র্য (Diversification) বাড়ে না, বরং একই ধরনের শেয়ারে বারবার বিনিয়োগ হয়ে যায়।
তাই নতুন ফান্ড কেনার আগে পুরনো ফান্ডগুলির পোর্টফোলিও মিলিয়ে দেখা জরুরি।
কর ও এক্সিট খরচও মাথায় রাখুন
রিব্যালান্স করার সময় কোনও বিনিয়োগ বিক্রি করলে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স বা এক্সিট লোড প্রযোজ্য হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে পুরনো বিনিয়োগ বিক্রি না করে নতুন অর্থ সঠিক সম্পদ শ্রেণিতে বিনিয়োগ করেই কাঙ্ক্ষিত Asset Allocation ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
কতদিন অন্তর পোর্টফোলিও রিভিউ করবেন?
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট কোনও নিয়ম না থাকলেও সাধারণভাবে প্রতি ১২ মাস অন্তর পোর্টফোলিও পর্যালোচনা করা ভালো।
বিশেষ করে যদি:
• আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়
• নতুন আর্থিক লক্ষ্য তৈরি হয়
• সন্তানের উচ্চশিক্ষা বা অবসরের মতো লক্ষ্য কাছে চলে আসে
• কোনও একটি সম্পদের অনুপাত ৫-১০ শতাংশের বেশি পরিবর্তিত হয়
তাহলে অবশ্যই রিব্যালান্সিংয়ের কথা ভাবা উচিত।
যে ভুলগুলি একেবারেই করবেন না
বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সাধারণ ভুল এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
• ঘন ঘন পোর্টফোলিও পরিবর্তন করা
• বাজারের উত্থান-পতন দেখে আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নেওয়া
• শুধুমাত্র একটি অ্যাকাউন্ট দেখে বিনিয়োগ মূল্যায়ন করা
• দীর্ঘদিন পোর্টফোলিও পর্যালোচনা না করা
• স্বল্পমেয়াদি দুর্বল পারফরম্যান্স দেখে ভালো ফান্ড বিক্রি করে দেওয়া
দীর্ঘমেয়াদে শৃঙ্খলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, সফল বিনিয়োগ শুধু ভালো ফান্ড বেছে নেওয়ার উপর নির্ভর করে না। বরং নিয়মিত পোর্টফোলিও পর্যালোচনা, সঠিক সম্পদ বণ্টন বজায় রাখা এবং আবেগের পরিবর্তে পরিকল্পনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ তৈরির সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নতুন অর্থবর্ষ তাই শুধু নতুন বিনিয়োগের নয়, পুরনো বিনিয়োগকে সঠিক পথে রাখারও আদর্শ সময়।





