কলকাতা: ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের অনুগত সৈনিক৷ এবার নেত্রীর হাত ছাড়লেন তিনি৷ মদন মিত্রের দলত্যাগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ঝড়। বুধবার দুপুরে তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন কামারহাটির বিধায়ক। তাঁর এই সিদ্ধান্তে শাসকদলের অন্দরে চূড়ান্ত অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
কীভাবে ঘটল এই নাটকীয় মোড়?
মঙ্গলবার রাতে ইডি-র তলব এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহার বাড়িতে মদন মিত্রের উপস্থিতির পর থেকেই জল্পনা চলছিল। বুধবার দুপুরে সেই জল্পনার অবসান ঘটল। এদিন দুপুরে সাদা পাঞ্জাবি ও চোখে কালো রোদচশমা পরে সরাসরি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে যান মদন মিত্র। সেখানেই তিনি ঘোষণা করেন, “তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। কেবল এই ঘর থেকে ওই ঘরে গেলাম। ওই ঘরে হয় তো একটা সুখের পালঙ্ক ছিল। এই ঘরে হয় তো একটা খাটিয়া রয়েছে। আমি খাটিয়ার দিকটাই বেছে নিলাম।”
পদত্যাগ ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য
নিজের ইস্তফার বিষয়ে মদন মিত্র বলেন, “তৃণমূলের যত পদ ছিল, সব ছেড়ে দিলাম। তৃণমূলের বিধায়ক নই শুধু, আমি বাংলার বিধায়ক।” মমতাকে ধন্যবাদ জানালেও, দল ছাড়ার নেপথ্যে থাকা কারণ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে মদন বলেন, “দুঃখের বিষয় যখন বাংলার এই সময় নিয়ে ইতিহাস লেখা হবে, তখন লেখা হবে যে, একটা লোকের জন্য গোটা দল, যারা ২১৩ আসন পেয়েছিল, তার সর্বনাশ হয়ে যায়।”
রাজনৈতিক সমীকরণ
মদন মিত্রের এই পদক্ষেপ শাসকদলের জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই নেতার শিবির বদল বা দলত্যাগের সিদ্ধান্ত বিরোধীদের জন্য নতুন রসদ জোগাল। আগামী ২১ জুলাই তিনি ঋতব্রত শিবিরের কর্মসূচিতেই অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন।
কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো না হলেও, মদন মিত্রের এই শিবিরের পরিবর্তনের বার্তা যে ২০২৬-এর রাজনীতির সমীকরণ দ্রুত বদলে দিচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।





