‘চাকরির দরজা খুলেছে’, ওবিসি ইস্যুতে কড়া আক্রমণ শুভেন্দুর

ওবিসি সংরক্ষণ (OBC Case) ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একদিন আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের দায়ের করা ওবিসি…

Free Healthcare for the Underprivileged Remains Priority, Says Suvendu Adhikari as Health Coverage Widens

ওবিসি সংরক্ষণ (OBC Case) ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একদিন আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের দায়ের করা ওবিসি সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাহার করা হবে। সেই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা প্রত্যাহার করে নিল বর্তমান রাজ্য সরকার। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

মঙ্গলবার সুপ্রিম (OBC Case) কোর্টে শুনানির সময় সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে জানান, রাজ্য মন্ত্রিসভা পূর্বতন সরকারের দায়ের করা আপিল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্য অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনও তাদের পৃথক আপিল প্রত্যাহার করেছে বলে আদালতকে জানানো হয়। কমিশনের পক্ষে আইনজীবী কুণাল চট্টোপাধ্যায় আদালতে এই সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন।

উভয় পক্ষের (OBC Case) বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই মামলায় যদি কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত বলে মনে করে, তাহলে তারা চাইলে স্বাধীনভাবে নতুন মামলা বা আবেদন দায়ের করতে পারবেন। ফলে বিষয়টি পুরোপুরি শেষ হয়ে গেল না, বরং ভবিষ্যতে নতুন আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনাও খোলা থাকল।

এই মামলার সূত্রপাত কলকাতা হাইকোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়কে কেন্দ্র করে। ২০২৪ সালের মে মাসে হাইকোর্ট ২০১০ সালের পর পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৭৭টি সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি বাতিলের নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ওই অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বাতিল হওয়া ৭৭টি সম্প্রদায়ের মধ্যে ৭৫টিই মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত ছিল। সেই রায়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

কলকাতা হাইকোর্টের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। রাজ্যের দাবি ছিল, ওবিসি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে সংবিধান এবং প্রচলিত নিয়ম মেনেই পদক্ষেপ করা হয়েছে। সেই কারণেই হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে আপিল করা হয়।