দিল্লির যন্তরমন্তরে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস বিতর্কে আন্দোলনরত লাদাখের সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) । টানা অনশনের জেরে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে আশঙ্কা বাড়তে থাকায় মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়ে অনশন প্রত্যাহারের আবেদন জানান তিনি।
নিজের পোস্টে মহুয়া লেখেন, “সরকার আপনার এবং কোটি কোটি যুবকের জীবন নিয়ে ভাবিত নয়। কিন্তু আমাদের জন্যই আপনার বেঁচে থাকা জরুরি। দয়া করে অনশন প্রত্যাহার করুন এবং লড়াই জারি রাখুন।” (Mahua Moitra) তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহল এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার প্রতিবাদে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লির যন্তরমন্তরে আন্দোলন চলছে। আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক। প্রথম থেকেই তিনি এই প্রতিবাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় সরকার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কার্যকর পদক্ষেপ না করলে অনশনে বসার ঘোষণা করেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী গত ২৮ জুন থেকে তিনি আমরণ অনশন শুরু করেন।
মঙ্গলবার তাঁর অনশন ১৭ দিনে পড়েছে। (Mahua Moitra) দীর্ঘ সময় ধরে খাবার না খাওয়ার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়েছে বলে আন্দোলনকারীদের দাবি। জানা গিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে তাঁর শরীরের ওজন প্রায় ৮.২ কেজি কমেছে। পাশাপাশি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে গেছে। (Mahua Moitra) আন্দোলনের আয়োজকদের দাবি, পরীক্ষায় তাঁর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ডেসিলিটার প্রতি ৬৭ মিলিগ্রাম পাওয়া গেছে। রক্তচাপও তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন অনশনে থাকলে শরীরে একাধিক জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও নিজের দাবিতে এখনও অনড় রয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতেই এই আন্দোলন চলছে।
আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপও কেন্দ্রের উদ্দেশে আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এই বিষয়টিকে অহংকারের লড়াই হিসেবে না দেখে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত। তিনি বলেন, একটি মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভুল স্বীকার করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দুর্বলতার পরিচয় নয়, বরং গণতান্ত্রিক দায়িত্ববোধের প্রকাশ।
এদিকে, সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। বিভিন্ন মহল থেকে তাঁকে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। যদিও আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই সোনম ওয়াংচুকের এই অনশন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে আন্দোলনের দাবিগুলি নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতিও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এখন নজর কেন্দ্রের পরবর্তী অবস্থান এবং আন্দোলনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশের দিকে।





