বিধানসভায় ফিরছে বাজেট আলোচনা: বুধবার প্রশ্নের মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুভেন্দু

কলকাতা: বিধানসভায় ফের ফিরছে স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট নিয়ে আলোচনার প্রথা। দীর্ঘ ১৫ বছরের ব্যবধান কাটিয়ে আগামী বুধবার, ২২ জুলাই রাজ্য বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে স্বরাষ্ট্র…

কলকাতা: বিধানসভায় ফের ফিরছে স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট নিয়ে আলোচনার প্রথা। দীর্ঘ ১৫ বছরের ব্যবধান কাটিয়ে আগামী বুধবার, ২২ জুলাই রাজ্য বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট। গত কয়েক বছর এই গুরুত্বপূর্ণ বাজেট ‘গিলোটিন’-এর মাধ্যমে পাশ হয়ে যেত। ফলে বিধানসভার অন্দরে তা নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগই থাকত না। কিন্তু বর্তমান বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই রীতি ভেঙে আলোচনার পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কী জানা যাচ্ছে?

আগামী শুক্রবার, ১৭ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব, যা চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যেই মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের বাজেট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বুধবার স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট পেশ হবে। ওই দিন মোট তিন ঘণ্টা ধরে আলোচনার জন্য সময় বরাদ্দ করা হয়েছে।

মমতা জমানার স্মৃতি বনাম বর্তমান পরিস্থিতি

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ জমানায় স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট আলোচনার মুখে পড়ত না। মূলত সময় বাঁচাতে বা কৌশলী সিদ্ধান্তে তা সরাসরি গিলোটিনে পাঠানো হতো। ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার প্রথম বছর একমাত্র আলোচনা হয়েছিল, তারপর থেকে বিষয়টি আর আলোচনার টেবিলে ওঠেনি। সেই দীর্ঘ প্রথা ভেঙে বিজেপি সরকারের এই উদ্যোগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

কেন এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ?

স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট নিয়ে আলোচনার সুযোগ পাওয়ায় বিরোধীরা এখন আইন-শৃঙ্খলা এবং রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে সরকারকে চেপে ধরার সুযোগ পাবে। একইসঙ্গে, ওই বাজেটের উত্তর দেবেন স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এতদিন গিলোটিন প্রক্রিয়ার কারণে মন্ত্রীকে সরাসরি বিধানসভায় প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতো না। এবারের অধিবেশনে শুভেন্দু অধিকারী বাজেট নিয়ে বিধায়কদের প্রশ্নের কীভাবে উত্তর দেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র কৌতূহল রয়েছে।

আগামী ১৭ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত চলা এই অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দফতরের বাজেট নিয়ে সরগরম থাকবে বিধানসভার অন্দরমহল। শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষেরই এই অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিজস্ব প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।