বাবান আদক, কলকাতা: একপেশে ম্যাচে পাঠচক্রকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কলকাতা ফুটবল লিগে (Calcutta Football League) অভিযান শুরু করল মোহনবাগান (Mohun Bagan)। সোমবার ঘরের মাঠে গ্রাউন্ডে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসেছিল তারা। প্রতিপক্ষকে বিন্দুমাত্র দাঁড়ানোর সুযোগ না দিয়ে, বল পজেশন ও হাইপ্রেসিংয়ের নিখুঁত মেলবন্ধনে এই বড় জয় ছিনিয়ে নিল সবুজ মেরুন শিবির।
রেফারির বাঁশি বাজার পর থেকেই মাঝমাঠের দখল নিজেদের হাতে তুলে নেয় মোহনবাগান। ক্রমাগত উইং প্লে এবং বক্সের ভেতর বল বাড়ানোর ফল মেলে ২২ মিনিটে। কিয়ান নাসিরির নিখুঁত ফিনিশে প্রথম গোলটি আসে। এই গোলটি মূলত বাগানের ফরোয়ার্ডদের পজিশনিং সেন্সের ফসল। প্রথমার্ধে এক গোলে এগিয়ে থেকে লকার রুমে গেলেও, খেলার সার্বিক নিয়ন্ত্রণে নিরঙ্কুশ আধিপত্য ছিল বাগানেরই।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা করে পাঠচক্র। বেশ কয়েকটি প্রতিআক্রমণ বা কাউন্টার অ্যাটাক গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও মোহনবাগানের সুসংগঠিত রক্ষণের সামনে তা মুখ থুবড়ে পড়ে। উল্টে ৬৫ মিনিটে সুহেল আহমেদ ভাট ব্যবধান দ্বিগুণ করে ম্যাচের রাশ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেন। ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে এই গোলটিই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল, কারণ এরপর পাঠচক্রের প্রতিরোধ কার্যত ভেঙে পড়ে।
ম্যাচের শেষ লগ্নে, যখন পাঠচক্রের ডিফেন্ডাররা ক্লান্ত, ঠিক তখনই নিজেদের গতির পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে মোহনবাগান। ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে (৯০+২’) সায়ন ব্যানার্জি তৃতীয় গোলটি করেন। এরপর ৯০+৫ মিনিটে বিবান জ্যোতি লস্কর একক দক্ষতায় জালে বল জড়িয়ে পাঠচক্রের কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতেন।
কলকাতা লিগের মতো দীর্ঘ টুর্নামেন্টে এই ক্লিন শিট জয় মোহনবাগানের আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। তবে দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই জয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। কিয়ান ও সুহেলের মতো তরুণ ফুটবলারদের এই ধারাবাহিক ফর্ম ভবিষ্যতের কঠিন ম্যাচগুলির আগে টিম ম্যানেজমেন্টকে অনেকটাই স্বস্তি দেবে।





