শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের দীর্ঘদিনের সংকট, বন্ধ ও রুগ্ন চা বাগান (Tea Industry)পুনরুজ্জীবিত করা এবং লক্ষাধিক চা শ্রমিকের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার দাবিতে পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন চা শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে উত্তরবঙ্গের ৩৫টি চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট এবং একাধিক প্রস্তাব শ্রমমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ভারতীয় টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অমরনাথ ঝা জানান, বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের মোট ৪২০টি চা বাগানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান। কোন কোন বাগান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে, কোনগুলি রুগ্ন অবস্থায় চলছে, কোথায় শ্রমিকরা নিয়মিত মজুরি পাচ্ছেন না এবং কোথায় শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই অনুযায়ী প্রতিটি বাগানের বর্তমান অবস্থা, শ্রমিকদের সমস্যা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ-সহ একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট শ্রমমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
আরও দেখুনঃ প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত দার্জিলিং পাহাড়, ধসে বন্ধ একাধিক রাস্তা, সতর্ক প্রশাসন
তিনি আরও জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে ফের একটি পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে বন্ধ চা বাগান পুনরায় চালু করা, রুগ্ন বাগানগুলিকে সচল করার রূপরেখা, শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য আইনসিদ্ধ পাওনা দ্রুত মেটানোর বিষয়ে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলির মধ্যে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও দেখুনঃ দুধিয়ায় নতুন বেইলি ব্রিজের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি, বর্তমানে উত্তরবঙ্গে প্রায় ৩২টি চা বাগান সম্পূর্ণ বন্ধ। এর মধ্যে অধিকাংশই জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার সমতল এলাকায় অবস্থিত। পাহাড়ি এলাকায় তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক বাগান বন্ধ থাকলেও সেখানেও বেশ কয়েকটি বাগান আর্থিক সংকটে ধুঁকছে। এছাড়া আরও ৪০ থেকে ৪২টি চা বাগান রুগ্ন অবস্থায় রয়েছে। এই বাগানগুলিতে শ্রমিকদের নিয়মিত মজুরি, প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF), গ্র্যাচুইটি, রেশন, চিকিৎসা ও অন্যান্য আইনসিদ্ধ সুযোগ-সুবিধা নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
অমরনাথ ঝা বলেন, উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের সঙ্গে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ স্থায়ী শ্রমিক এবং অস্থায়ী শ্রমিক-সহ প্রায় নয় লক্ষ মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। কিন্তু বন্ধ ও রুগ্ন চা বাগানের কারণে বর্তমানে ৫০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নিয়মিত আয় না থাকায় বহু পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে এবং জীবিকা নির্বাহ করাই কঠিন হয়ে উঠেছে।
শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি, শুধুমাত্র বৈঠক নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বন্ধ চা বাগান পুনরায় চালু, রুগ্ন বাগানের আর্থিক পুনর্বাসন, শ্রমিকদের সমস্ত বকেয়া পরিশোধ এবং শ্রম আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের চা শিল্পকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে হবে।
আরও দেখুনঃ টোটো চালকদের দীর্ঘদিনের সমস্যা নিয়ে শিলিগুড়ি হেড পোস্ট অফিসের সামনে অবস্থান সিটুর
সংগঠনের আশা, নবনিযুক্ত শ্রমমন্ত্রী বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেখবেন এবং আগামী বৈঠকে বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনের পথ খুলে যাবে।





