বিশাখাপত্তনম: ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি বাড়াতে আরও এক ধাপ এগোল কেন্দ্র। মুম্বইয়ের মাজগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেডে তৈরি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রবাহী অত্যাধুনিক স্টেল্থ ফ্রিগেট ‘আইএনএস মহেন্দ্রগিরি’ আনুষ্ঠানিকভাবে নৌসেনার হাতে তুলে দেওয়া হল। শনিবার বিশাখাপত্তনমের নৌঘাঁটিতে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের উপস্থিতিতে কমিশন করা হলো এই রণতরী। (INS Mahendragiri joins Navy )
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এ ইন্দ্রজিৎ ছিলেন ‘মেঘনাদ’। মেঘের আড়াল থেকে যুদ্ধ করতেন, বিপক্ষ তাঁর অস্তিত্ব টের পেত না। ঠিক সেই প্রযুক্তিতেই তৈরি এই ফ্রিগেটটি। প্রজেক্ট ১৭ আলফা ফ্রিগেট প্রকল্পের অধীনে নির্মিত এই রণতরীটি শত্রুর রেডার সিগনেচার এড়াতে ওস্তাদ। ফলে সমুদ্রের বুকে কোন দিকে, কোথায় আইএনএস মহেন্দ্রগিরি লুকিয়ে রয়েছে, তা ঠাহর করা কার্যত অসম্ভব শত্রুপক্ষের পক্ষে।
এই ফ্রিগেটে রয়েছে বিধ্বংসী ব্রহ্মস ‘ভূমি থেকে ভূমি’ ক্ষেপণাস্ত্র। সেই সঙ্গে শত্রুর আকাশপথে হামলা রুখতে রয়েছে ‘ভূমি থেকে আকাশ’ ক্ষেপণাস্ত্র। সমুদ্রের বুকে টানা ৫,৫০০ নটিক্যাল মাইল পাড়ি দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এই জাহাজ। এই রণতরীর ৭৫ শতাংশ উপাদানই দেশীয়। ২০০-রও বেশি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার যৌথ প্রয়াসে তৈরি এই জাহাজ প্রতিরক্ষা উৎপাদনে ভারতের ‘আত্মনির্ভরতা’র অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত ৩০ এপ্রিল থেকে আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলরাশি পেরিয়ে মহেন্দ্রগিরি তার কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। শেষ পর্যন্ত বিশাখাপত্তনমে নৌবাহিনীর বহরে সে যুক্ত হলো ‘পি-১৭এ’ শ্রেণির ষষ্ঠ যুদ্ধজাহাজ হিসেবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, ২০২৭ সালের মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর ভাঁড়ারে অন্তত ২০০টি বিভিন্ন শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ মজুত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে মোদী সরকার। আপাতত কলকাতার গার্ডেনরিচ, মুম্বইয়ের মাজগাঁও-সহ দেশের বিভিন্ন ডক ইয়ার্ডে ১ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৫টি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়া ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ স্লোগানকে মান্যতা দিয়ে আরও ২ লক্ষ ৩৫ হাজার কোটি টাকা খরচে ৭৪টি নতুন যুদ্ধজাহাজ ও ডুবোজাহাজ তৈরির অনুমোদন মিলেছে। যার মধ্যে রয়েছে ন’টি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন এবং সাতটি পরবর্তী প্রজন্মের মাল্টি-রোল স্টেল্থ ফ্রিগেট। মাজগাঁও ডকে ‘প্রজেক্ট ১৮’ বা ‘নেক্সট জেনারেশন ডেস্ট্রয়ার’ (এনজিডি) তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে, সমুদ্রসীমায় ভারতের আধিপত্য বজায় রাখতে নৌবাহিনীকে যে আধুনিক থেকে আধুনিকতর করে তোলা হচ্ছে, আইএনএস মহেন্দ্রগিরি তারই বড় নজির।
UCC বিল পর্যালোচনায় তৈরী ৯ জনের কমিটি! কে কে স্থান পেলেন
‘জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ’, ঢাকার মঞ্চে স্পষ্ট বার্তা ভারতের





