বাংলায় আমুলের মেগা প্রকল্প, ১৮ জুলাই হাওড়ায় শিলান্যাসে অমিত শাহ

বাংলায় শিল্পায়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে চলতি জুলাই মাসে। বিজেপি সরকার গঠনের পর শিল্প, পরিকাঠামো এবং বৃহৎ বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু…

amit-shah-praises-suvendu-adhikari-gandhinagar-border-infiltration-speech

বাংলায় শিল্পায়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে চলতি জুলাই মাসে। বিজেপি সরকার গঠনের পর শিল্প, পরিকাঠামো এবং বৃহৎ বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দিয়েছিলেন, তার বাস্তব প্রতিফলন এবার দেখা যেতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গত ১১ মে প্রথমবার নবান্নে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। মাত্র দুই মাসের মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক শিল্প প্রকল্পের শিলান্যাসের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। (Amit Shah) ডানকুনি, হাওড়া এবং বাঁকুড়া এই তিন জেলাকে কেন্দ্র করে নতুন বিনিয়োগের যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা বাংলার শিল্প মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই শিল্প উদ্যোগগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে আমুলের (GCMMF) মেগা ডেইরি প্রকল্প। আগামী ১৮ জুলাই (Amit Shah) অমিত শাহের হাত ধরে এই প্রকল্পের শিলান্যাস হওয়ার কথা রয়েছে।(Amit Shah) অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ও। এই প্রকল্প শুধু একটি নতুন কারখানা নয়, বরং পূর্ব ভারতে আমুলের সম্প্রসারণ কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে তৈরি হতে চলা এই অত্যাধুনিক দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রকে আমুল বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদনকারী কারখানা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, প্ল্যান্টটি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ১৫ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ কেজি দই এবং বিভিন্ন ধরনের ফারমেন্টেড ডেয়ারি পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে। দুধ ও দইয়ের পাশাপাশি এখানে তৈরি হবে মিষ্টি দই, লস্যি, পনির, মাখন, ঘি এবং আইসক্রিমের মতো একাধিক জনপ্রিয় দুগ্ধজাত পণ্য।

এই প্রকল্পের জন্য হাওড়ার সাঁকরাইলকে বেছে নেওয়ার পিছনেও রয়েছে কৌশলগত কারণ। জাতীয় সড়ক-১৬ এবং জাতীয় সড়ক-১৯-এর সংযোগস্থলে অবস্থিত এই এলাকা কলকাতা বন্দর, রেলপথ এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এখান থেকে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতে দ্রুত ও সহজে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এই ভৌগোলিক সুবিধাই আমুলের বৃহৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।