তেহরান: ইরান ও আমেরিকার সামরিক সংঘাত ক্রমশই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। ওমান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার বদলা নিতে এবার ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরে তীব্র বিমান হামলা চালাল মার্কিন বাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার এই হামলায় বন্দরের দুটি প্রধান পিয়ার (ডক) এবং বন্দর পরিচালনার মূল কেন্দ্র, মেরিটাইম ট্র্যাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
হামলার তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চাবাহার ও পার্শ্ববর্তী কোনারাক শহর মিলিয়ে মোট ১০টি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। এই হামলার জেরে চাবাহারের প্রায় অর্ধেক অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সিস্তান ও বালুচিস্তানের প্রাদেশিক বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের মতে, তিনটি প্রধান বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুটি মেরামত করা সম্ভব হলেও একটি এখনও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। চাবাহার ফ্রি জোন অর্গানাইজেশনের প্রধানও ট্র্যাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার ধ্বংস হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ছবি ও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শহীদ বেহেশতি বন্দরের নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত।
কেন এই সংঘাত?
মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় তিনটি কার্গো জাহাজের ওপর হামলার দায় ইরানের ওপর চাপিয়েছে আমেরিকা। সেই হামলার বদলা নিতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, “জাহাজে বোমা হামলার বদলা হিসেবেই এই আঘাত। যদি এমন ঘটনা আবারও ঘটে, তবে পরিস্থিতি এর চেয়েও অনেক খারাপ হবে!”
কৌশলগত গুরুত্ব
হরমুজ প্রণালীর ঠিক বাইরে অবস্থিত চাবাহার বন্দরটি ইরানের একমাত্র সমুদ্রমুখী বন্দর এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গেটওয়ে। মেরিটাইম ট্র্যাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার ধ্বংস হওয়া মানে হলো, এই বন্দরের জাহাজ চলাচলের যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া, যা ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞেরা।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার মাধ্যমে ইরান ও আমেরিকার যে সংঘাত শুরু হয়েছিল, তা এখন হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এক বিস্ফোরক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। ইরান সরাসরি হামলার দায় স্বীকার না করলেও আমেরিকা লাগাতার তেহরানকে দায়ী করে এই সামরিক অভিযান জারি রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‘সিন্ধু সভ্যতা’ বনাম ‘গজনভি-বাবর’: অস্ত্রের নামেই কি ধরা পড়ছে পাকিস্তানের দ্বিচারিতা?
‘ওরা মিথ্যাবাদী, ওরা অসুস্থ’: ইরানের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ট্রাম্প, ভেঙে গেল যুদ্ধবিরতি





