ইসলামাবাদ: ভারতের সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করার পর থেকেই নতুন কৌশল নিয়েছে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের প্রাচীন ‘সিন্ধু সভ্যতা’ বা ‘ইন্ডিজ়’ ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী হিসেবে তুলে ধরতে মরিয়া ইসলামাবাদ। অথচ, সেই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অন্দরে তাকালেই বেরিয়ে পড়ছে এক অদ্ভুত স্ববিরোধিতা। একদিকে প্রাক-ইসলামিক ঐতিহ্যের গর্ব, অন্যদিকে ইতিহাসের সেই আক্রমণকারীদের নামে মিসাইলের নামকরণ, যাঁদের হাতে এই উপমহাদেশ লুণ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ আক্ষরিক অর্থেই ‘দ্বিচারিতা’। একদিকে তারা নিজেদের প্রাচীন সভ্যতার পীঠস্থান হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র ও মিসাইলগুলোর নাম রাখা হয়েছে মাহমুদ গজনভি, মহম্মদ ঘুরী, বাবর কিংবা আহমদ শাহ আবদালির মতো আক্রমণকারীদের নামে।
অস্ত্রের নামেই ইতিহাসের ‘লুঠতরাজ’
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের অস্ত্রের নাম রাখে নিজস্ব গৌরবময় ঐতিহ্যের ভিত্তিতে। যেমন ভারতের ‘অগ্নি’, ‘পৃথ্বী’ বা ‘তেজস’। আর পাকিস্তানের তালিকার দিকে তাকালে দেখা যায় এক ভিন্ন ছবি-
হটফ-৩ গজনভি: মাহমুদ গজনভি, যিনি সোমনাথ লুণ্ঠন করেছিলেন।
হটফ-৫ গৌরী: মহম্মদ ঘুরী, যাঁর হাত ধরে দিল্লি সালতানাতের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল।
হটফ-৭ বাবর: মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।
হটফ-২ আবদালি: আহমদ শাহ আবদালি, যিনি বারবার উত্তর ভারতে অভিযান চালিয়েছিলেন।
তৈমুর: ১৪ শতকে দিল্লি ধ্বংসকারী তৈমুর লং।
শুধু আক্রমণকারীদের নামই নয়, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীতে আরবী পরিভাষার ব্যবহারও অত্যন্ত প্রবল। এমনকি তাদের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের নাম ‘ জুলফিকার’, যা পয়গম্বর মহম্মদের তরবারির নামানুসারে রাখা।
সামরিক বনাম অসামরিক দ্বন্দ্ব
পাকিস্তানের বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ কিছুটা নমনীয় সুরেই বলেছিলেন, “অশোক, চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য বা কণিষ্ক আমাদের ইতিহাসের অংশ।” মাহমুদ গজনভির লুণ্ঠনকেও তিনি সরাসরি আক্রমণ হিসেবেই অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভিজছে না। কারণ, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী মূলত তাদের ইসলামি পরিচয়েই আবদ্ধ। বর্তমান সেনাপ্রধান অসীম মুনির, যিনি নিজে ‘হাফিজ-এ-কুরআন’, বাহিনীর অন্দরে ইসলামীকরণের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সামরিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ঐতিহ্যের চেয়ে ‘আদর্শিক আধিপত্য’ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভারত বা হিন্দুদের প্রতি বিদ্বেষ জিইয়ে রাখতেই তারা এমন নাম বেছে নিয়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে ভারতীয়দের ওপর হওয়া অত্যাচারের স্মারক।
তাই পাকিস্তান যতবারই নিজেকে প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার ধারক হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছে, ততই তাদের মিসাইলগুলোর নাম সেই দাবিকে উপহাস করছে। পাকিস্তানের এই দ্বিচারিতা যে তাদের অন্দরের গভীর সংকটকেই সামনে এনে দিয়েছে, তা নিয়ে এখন আর কোনো সন্দেহ নেই। পাকিস্তানের এই ‘বুলডোজ়ার’ করা ইতিহাস আসলে তাদের অস্ত্রের নামেই বারবার ধুলোয় মিশে যাচ্ছে।
‘ওরা মিথ্যাবাদী, ওরা অসুস্থ’: ইরানের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ট্রাম্প, ভেঙে গেল যুদ্ধবিরতি
ইরানে মার্কিন সার্জিক্যাল স্ট্রাইক: ৮০টি ঘাঁটিতে আঘাত, বন্ধ তেল রফতানির ছাড়পত্র





