বিট্টু দত্ত, কলকাতা: ইস্টবেঙ্গল (East Bengal ) এফসি এর ইতিহাসে ২১ মে, ২০২৬ দিনটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কলকাতার কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে ইন্টার কাশিকে ২-১ গোলে হারিয়ে লাল-হলুদ ব্রিগেড প্রথমবারের মতো আইএসএল শিরোপা জয় করে। স্প্যানিশ কোচের অধীনে এই সাফল্য সমর্থকদের নতুন স্বপ্ন দেখায় এবং ক্লাবের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটায়।
নতুন মরশুমের আগে ভারতীয় ফুটবলে ব্যস্ততা তুঙ্গে। চলতি ট্রান্সফার উইন্ডোতে দলগুলি নিজেদের আরও শক্তিশালী করে তুলতে মরিয়া। ২০২৬-২৭ মরশুম আনুষ্ঠানিকভাবে ১ জুন থেকে শুরু হয়ে আগামী বছরের ৩১ মে পর্যন্ত চলবে। ২৫ জুলাই থেকে শুরু হবে মর্যাদাপূর্ণ ডুরান্ড কাপ। এরপর প্রায় আট মাসব্যাপী আইএসএল এবং মরশুমের শেষে ফেডারেশন কাপ অনুষ্ঠিত হবে।
তবে শিরোপা জয়ের পরেও ইস্টবেঙ্গল শিবিরে এসেছে বড় পরিবর্তন। কোচ অস্কার ব্রুজোনের সঙ্গে পথচলা শেষ হয়েছে। তাঁর পরিবর্তে দায়িত্ব নিয়েছেন ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম সফল কোচ, স্পেনের অভিজ্ঞ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। কলকাতায় তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রবল উৎসাহ তৈরি হয়েছে। এবার তাঁর লক্ষ্য, গত মরশুমের সাফল্য ধরে রেখে লাল-হলুদকে দেশীয় ফুটবলের শীর্ষে প্রতিষ্ঠিত রাখা।
নতুন কোচের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দলকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করা। বিশেষ করে একজন নির্ভরযোগ্য বিদেশি স্ট্রাইকার দলে রাখা এখন ইস্টবেঙ্গলের প্রধান অগ্রাধিকার। গত মরশুমে ইউসেফ এজেজারির অসাধারণ পারফরম্যান্স দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। ১১ গোল করে তিনি লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন এবং জেতেন গোল্ডেন বুট। ফলে তাঁকে দলে ধরে রাখা অথবা তাঁর সমমানের বিকল্প খুঁজে বের করা ক্লাবের কাছে অত্যন্ত জরুরি।
একই সঙ্গে মাঝমাঠেও সৃজনশীলতার ঘাটতি পূরণ করতে চাইছে ক্লাব। এমন একজন প্রকৃত ‘নম্বর ১০’-এর সন্ধানে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল, যিনি নিয়মিত গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন, বলের দখল ধরে রাখবেন এবং এএফসি প্রতিযোগিতায় শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও কার্যকর হবেন। নতুন কোচের কৌশলের সঙ্গে মানানসই ফুটবলার বেছে নেওয়ার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
স্ট্রাইকার হিসেবে পাঞ্জাব এফসির এফিয়ংয়ের নামও আলোচনায় রয়েছে। গত আইএসএল মরশুমে তিনি সাতটি গোল করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। আইএসএলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করার ক্ষমতা তাঁকে এজেজারির সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে এগিয়ে রাখছে। তবে শেষ পর্যন্ত বিদেশি ফুটবলার নির্বাচনের ক্ষেত্রে হাবাসের মতামতই হবে চূড়ান্ত।
শিরোপা জয়ের আনন্দ এখনও টাটকা। কিন্তু নতুন মরশুমে সেই সাফল্য ধরে রাখাই এখন ইস্টবেঙ্গলের প্রধান লক্ষ্য। সমর্থকদের প্রত্যাশা, হাবাসের অভিজ্ঞতা এবং সঠিক দলগঠনের মাধ্যমে লাল-হলুদ আবারও ভারতীয় ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখবে।





