কাশ্মীর এনকাউন্টার: ৪ দিনের অভিযানের পর খতম লস্কর কমান্ডার জাকির গনাই

শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীরের সোপিয়ানে দীর্ঘ চার দিন ধরে চলা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেল ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। বুধবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে লস্কর-ই-তৈবা (LeT)…

শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীরের সোপিয়ানে দীর্ঘ চার দিন ধরে চলা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেল ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। বুধবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে লস্কর-ই-তৈবা (LeT) কমান্ডার জাকির গনাইকে খতম করেছে যৌথ বাহিনী। বুধবার এই এনকাউন্টার শেষে নিরাপত্তারক্ষীরা জাকিরের দেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

কীভাবে চলল অভিযান?

গত ৩ জুলাই সোপিয়ানের একটি ঘন বাগানে নজরদারি ক্যামেরায় প্রথম দুই জঙ্গির গতিবিধি ধরা পড়ে। এরপরই শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG), রাষ্ট্রীয় রাইফেলস (RR) এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (CRPF) যৌথ দল চারদিন ধরে এলাকাটি ঘিরে রেখেছিল। বুধবার অভিযানের পঞ্চম দিনে জাকির গনাইয়ের নিধনের খবর নিশ্চিত করেছে কাশ্মীর পুলিশ। এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) পুলিশ লিখেছে, “পালিয়ে বাঁচা অসম্ভব! এসওজি সোপিয়ান এবং যৌথ বাহিনীর অভিযানে এক লস্কর সন্ত্রাসবাদী খতম হয়েছে।”

উত্তেজনা সোপিয়ানে, তল্লাশি জারি

নিহত জাকির গনাই দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলার বাসিন্দা। নিরাপত্তা সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে সে লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়েছিল। বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এখন দ্বিতীয় জঙ্গি লতিফের দিকে। সে এখনও এলাকাতেই লুকিয়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে ধরার জন্য সেনার ‘ভিক্টর ফোর্স’ এলাকাটি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেছে। গ্রীষ্মকালীন ঘন পাতার আড়ালে জঙ্গিরা যাতে পালাতে না পারে, সেজন্য ড্রোন এবং রাত্রিকালীন সার্চলাইটের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

কৌশলগত গুরুত্ব

সোপিয়ান এলাকাটি দক্ষিণ কাশ্মীরের সঙ্গে মধ্য কাশ্মীর এবং পীর পঞ্জাল অঞ্চলের সংযোগকারী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করিডোর। গোয়েন্দা সংস্থার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি জঙ্গিদের আনাগোনা বাড়লেও স্থানীয় জঙ্গি কমান্ডারদের খতম করা অত্যন্ত জরুরি। জাকিরের মৃত্যুতে জঙ্গিদের স্থানীয় নেটওয়ার্ক ও নতুন করে নিয়োগের প্রক্রিয়া বড়সড় ধাক্কা খেল বলে মনে করছে প্রশাসন। সাতটি গ্রাম জুড়ে এই তল্লাশি অভিযান এখনও জারি রয়েছে।