বোলপুরে কেষ্টর পার্টি অফিসে তালা ঝোলাল বিজেপি, কিন্তু কেন?

বীরভূম: বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান কার্যালয়, যা এলাকায় ‘অনুব্রত মণ্ডলের কার্যালয়’ হিসেবেই বেশি পরিচিত, সেই অফিসেই তালা মেরে দিল বিজেপি। মঙ্গলবার সকালে বোলপুরের এই…

বীরভূম: বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান কার্যালয়, যা এলাকায় ‘অনুব্রত মণ্ডলের কার্যালয়’ হিসেবেই বেশি পরিচিত, সেই অফিসেই তালা মেরে দিল বিজেপি। মঙ্গলবার সকালে বোলপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপির যুব মোর্চার দাবি, এই অফিস থেকেই পুরপ্রতিনিধিদের উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল, যার ফলে সাধারণ মানুষ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। (bjp locks tmc office)

কী ঘটেছিল মঙ্গলবার সকালে?

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মঙ্গলবার সকালে দলীয় কর্মীরা যখন স্বাভাবিক নিয়মেই পার্টি অফিস খুলেছিলেন, সেই সময় হঠাৎই একদল যুবক সেখানে উপস্থিত হন। তাঁরা তৃণমূল কর্মীদের অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। কোনওরকম অশান্তি এড়াতে তৃণমূল কর্মীরা অফিস থেকে বেরিয়ে যান। এরপরই বিজেপির ওই কর্মীরা অফিসের মূল সুইচ বন্ধ করে দুটি গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। তালা মারার পর তাঁরা নিজেদের বিজেপির কর্মী বলে পরিচয় দেন এবং স্লোগান দিতে শুরু করেন।

বিজেপির অভিযোগ

বোলপুর সাংগঠনিক জেলা যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক অরুণ দাস অভিযোগ করেন, “বোলপুর পুরসভার কোনও ওয়ার্ডেই কাজ হচ্ছে না। এই পার্টি অফিস থেকেই কাউন্সিলারদের কাছে নির্দেশ যাচ্ছে যে, কোনো কাজ করা যাবে না। কাউন্সিলাররা পদত্যাগও করছেন না, আবার কাজও করছেন না। ঘরে বসে থাকছেন।” বিজেপির আরও অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এই কার্যালয় থেকেই নাকি ভোট পরবর্তী হিংসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের দাবি, নির্বাচনের পর থেকে বোলপুরসহ বিভিন্ন পুরসভায় সাধারণ মানুষের জন্য পরিষেবা কার্যত স্তব্ধ হয়ে আছে।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া

বিজেপির এই পদক্ষেপের পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পার্টি অফিসে তালা ঝোলানোর ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি কিংবা পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশাসন এখনও কোনো বিবৃতি দেয়নি।

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে এখন জোর চর্চা চলছে। একদিকে পুরসভার পরিষেবা ব্যাহত হওয়া, অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দলের এই ‘তালা ঝোলানো’ কর্মসূচি রাজ্য রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতির উত্তপ্ততাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।