রাজ্যে “সুপার এমারজেন্সি” চলছে এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে—এই ধরনের অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সরব হওয়ার পর এবার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) । তাঁর বক্তব্যে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) প্রশ্ন তোলেন, “মমতাকে কেন হাউস অ্যারেস্ট করা হবে না?” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারুইপুরের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের পরিস্থিতিতে জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বারুইপুরে এক নাবালিকার উপর ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় স্তরে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হয়। এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। অগ্নিমিত্রা পাল তাঁর বক্তব্যে অতীতের একাধিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে রাজ্যে মহিলাদের উপর বহু অত্যাচারের ঘটনা ঘটলেও শাসক দল সেই সময় যথাযথ ভূমিকা পালন করেনি। তাঁর দাবি অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে তদন্তের বদলে ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন রাজ্যে ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতনের ঘটনায় রাজনৈতিকভাবে টিম পাঠানো হলেও বাংলার গ্রামীণ এলাকায় একই ধরনের সক্রিয়তা দেখা যায়নি। তাঁর মতে, এই ধরনের আচরণ রাজনৈতিক দ্বৈত মানসিকতার প্রতিফলন।
বারুইপুর প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে মাঠে নামতে চাইছেন। তিনি বলেন, “আজ আপনি বারুইপুরে যাবেন রাজনীতি করতে? আর আমরা সেটার অনুমতি দেব? আপনি কি সেখানে গিয়ে উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করবেন”
তিনি আরও দাবি করেন, গত বহু বছর ধরে রাজ্যে বিভাজনের রাজনীতি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতেও বিরোধীরা একই ধরনের রাজনীতির পুনরাবৃত্তি করছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
তবে একই সঙ্গে অগ্নিমিত্রা পাল বারুইপুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, নির্যাতিতার পরিবারকে ন্যায়বিচার দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, কোনও নারী বা শিশুর উপর এই ধরনের নৃশংস আক্রমণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।


