বাবন আদক, কলকাতা ডেস্ক: আজকালকার ফুটবলারদের একটু ছুঁলেই মাঠে যে পরিমাণ গড়াগড়ি শুরু হয়, তা দেখলে মনে হয় যেন এখনই তাঁদের আইসিইউতে ভরতি করতে হবে! তাঁদের নিখুঁত অভিনয় দেখলে তো অস্কার জুরিরাও কনফিউজড হয়ে যান। কিন্তু একবার ভাবুন তো, যদি টিমের ক্যাপ্টেন নিজেই একজন এমবিবিএস ডাক্তার (Doctors Day) হন? তখন মাঠে কেউ চোট পেয়ে গড়াগড়ি খেলে আর সাইডলাইন থেকে ফিজিও ডাকার দরকার পড়ে না, ক্যাপ্টেন নিজেই হয়তো দৌড়ে এসে তাঁর চোটের চিকিৎসা করে ফেলবেন!
বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সত্যিই এমন কিছু ‘ডাক্তার ফুটবলার’ ছিলেন, যাঁরা বিপক্ষের ডিফেন্স চেরার পাশাপাশি দিব্যি মানুষের চিকিৎসাও করতে পারতেন! এই তালিকার সবচেয়ে বড় রত্ন হলেন ব্রাজিলের মহাতারকা সক্রেটিস (Sócrates)। ১৯৮২ ও ‘৮৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ক্যাপ্টেন ছিলেন তিনি, আর পেশায় ছিলেন একজন পুরোদস্তুর এমবিবিএস ডাক্তার! মাঠে তাঁর জাদুকরী পাস দেখে বিপক্ষের হার্টবিট বেড়ে যেত, আর ম্যাচ শেষে হয়তো তিনিই সেই হার্টবিট মেপে ওষুধ বাতলে দিতেন! পিছিয়ে নেই ১৯৭০-এর বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি টোস্টাও (Tostão)। ফুটবল থেকে অবসরের পর তিনি রীতিমতো ডাক্তারি পাশ করে ফুলটাইম চিকিৎসক হয়ে গিয়েছিলেন।
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি মিডফিল্ডার থিওফিলাস খুমালো তো নামেই ‘ডক্টর খুমালো’ (Doctor Khumalo)। যদিও তিনি নামের জোরেই এই ডাক্তারদের ক্লাবে ঢুকে পড়েছেন, তবে তাঁর খেলা দেখে বিপক্ষের ডিফেন্ডারদের রীতিমতো জ্বর আসত!
তবে এই ডাক্তার ফুটবলারদের গল্পে ভারতীয়দের একটু আলাদা করে কলার তোলার জায়গা আছে। কারণ, স্বাধীন ভারতের প্রথম ফুটবল ক্যাপ্টেন তালিমারেন আও (Talimeren Ao) ছিলেন একজন পেশাদার ডাক্তার! ১৯৪৮ সালের লন্ডন অলিম্পিকে তেরঙ্গা হাতে যখন তিনি হাঁটছিলেন, তখন ব্রিটিশরাও হয়তো ভাবছিল “ইনি কী ফুটবল খেলতে এসেছেন, নাকি আমাদের মেডিক্যাল চেকআপ করতে?”
যাই হোক, বিশ্বকাপর মরশুমে, মানবসেবার পাশাপাশি সবুজ গালিচায় ফুটবলের বিনোদন দিয়ে কোটি কোটি মানুষের ‘হার্টবিট’ বাড়িয়ে দেওয়া এই ‘ডাক্তার ফুটবলারদের’ জানাই হ্যাপি ডক্টরস ডে!





