বিধানচন্দ্র রায়ের নামে নতুন পরিচয় পেল বিধাননগর হাসপাতাল, চিকিৎসক দিবসে তৃণমূলকে কটাক্ষ

জাতীয় চিকিৎসক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে তিনি পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যনীতি ও হাসপাতাল পরিচালনা নিয়ে তীব্র সমালোচনাও করেন।…

Doctors' Day Announcement: Bidhannagar Hospital Renamed After Medical Icon

জাতীয় চিকিৎসক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে তিনি পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যনীতি ও হাসপাতাল পরিচালনা নিয়ে তীব্র সমালোচনাও করেন। সল্টলেকের ময়ূখ ভবনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। (Bidhannagar Hospital)

অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ছিল বিধাননগর সাব-ডিভিশনাল(Bidhannagar Hospital)  হাসপাতালের নাম পরিবর্তন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালের নতুন নাম হবে ‘ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল’। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের অন্যতম বিশিষ্ট চিকিৎসক এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের স্মৃতিকে যথাযোগ্য সম্মান জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

   

অনুষ্ঠানের সূচনায় ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জন্মবার্ষিকী (Bidhannagar Hospital) উপলক্ষে তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। উপস্থিত অতিথিরা তাঁর চিকিৎসা পরিষেবা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং আধুনিক পশ্চিমবঙ্গ গঠনে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারিক, চিকিৎসক এবং বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের কর্মজীবনের নানা দিক তুলে ধরে বলেন, রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা, নগর পরিকল্পনা এবং জনপরিষেবা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি দাবি করেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে ডাঃ রায়ের আদর্শ এবং কর্মদক্ষতা তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে নিষ্ঠা, সততা এবং দূরদর্শিতা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

এরপরই মুখ্যমন্ত্রী পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, বহু সরকারি হাসপাতালে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের অভাব, পরিষেবার মানের অবনতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবা এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে রাজনৈতিক বিভাজনের কোনও স্থান থাকা উচিত নয়। রোগীর স্বার্থই হওয়া উচিত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ছাত্রছাত্রীদের মেধা দেশের যে কোনও প্রান্তের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার মতো সক্ষমতা রাখে। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে সুসংহত পরিকল্পনা, আধুনিক অবকাঠামো এবং কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন। তিনি বলেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও উন্নত করতে সরকার বিভিন্ন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে এবং সরকারি হাসপাতালগুলিকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।