ফ্রান্সই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় দাবিদার! সুইডেন ম্যাচের আগে লিনেকার-ইব্রার সুর এক

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মঙ্গলবার নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হবে (World Cup)ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল ফ্রান্স ও সুইডেন। ম্যাচ শুরুর আগেই ফ্রান্সকে নিয়ে প্রশংসার বন্যা বইয়ে দিয়েছেন…

france-world-cup-title-favourites-lineker-ibrahimovic

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মঙ্গলবার নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হবে (World Cup)ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল ফ্রান্স ও সুইডেন। ম্যাচ শুরুর আগেই ফ্রান্সকে নিয়ে প্রশংসার বন্যা বইয়ে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড গ্যারি লিনেকার এবং সুইডেনের প্রাক্তন তারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। দু’জনেরই মত, এবারের বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার দিদিয়ের দেশঁর দল।

লিনেকারের মতে, ফ্রান্সকে শুধু অন্যতম ফেভারিট বললে ভুল হবে, কারণ তাঁর চোখে তারাই ট্রফি জয়ের প্রধান দাবিদার। দেশঁর অভিজ্ঞতা এবং বড় মঞ্চে দলের ধারাবাহিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বকাপ কীভাবে জিততে হয়, তা বর্তমান কোচদের মধ্যে দেশঁর মতো ভালো আর কেউ জানেন না। তাঁর বিশ্বাস, কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত ফ্রান্সের সামনে তেমন কোনও বড় বাধা নেই, যদি না দল আত্মতুষ্টিতে ভোগে।

   

আরও দেখুনঃ ওডিশার সঙ্গে চুক্তি বাতিল, দুই সিজনের জন্য সেলাঙ্গরেই থাকছেন বুমোস

একই সুর শোনা গেছে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের মুখেও। সুইডেনের কিংবদন্তি স্ট্রাইকারের মতে, বর্তমান ফরাসি দলকে হারানোর ক্ষমতা খুব কম দেশেরই রয়েছে। তাই সুইডেনের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলেই মনে করছেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপে দুরন্ত ছন্দে রয়েছে ফ্রান্স। আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপে, উসমান ডেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, ব্র্যাডলি বারকোলা এবং দেজিয়ের দুয়ের মতো একঝাঁক তারকা রয়েছেন।

এমবাপে প্রথম দুই ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন, তৃতীয় ম্যাচে নিজে গোল না পেলেও সতীর্থকে দিয়ে গোল করিয়েছেন। ডেম্বেলে শেষ গ্রুপ ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে, আর বদলি হিসেবে নেমেও নিয়মিত গোল পাচ্ছেন বারকোলা। ফলে প্রথম একাদশ বাছাই করাই এখন দেশঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা। দলের রক্ষণেও কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। মিডফিল্ডে আদ্রিয়ান র‍্যাবিও ফিরতে পারেন।

পিঠের সমস্যার কারণে আগের ম্যাচে বিশ্রামে থাকা উইলিয়াম সালিবা পুরোপুরি সুস্থ না হলে তাঁর জায়গায় খেলতে পারেন ম্যাজেন্স ল্যাক্রোঁই। ওলিসেকে আক্রমণভাগের মাঝখানে রেখে ডেম্বেলেকে ডান প্রান্তে খেলানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এনগোলো কন্তে ও মার্কাস থুরামের ফিটনেস নিয়ে এখনও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।

অন্যদিকে, সুইডেন গ্রুপে তৃতীয় স্থান দখল করে নকআউটে উঠেছে। আক্রমণে ভিক্টর গিয়োকেরেস, আলেকজান্ডার ইসাক এবং অ্যান্থনি এলাঙ্গার মতো প্রিমিয়ার লিগের তারকারা থাকলেও তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা রক্ষণভাগ। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে সাত গোল হজম করেছে তারা, যা নকআউটে ওঠা দলগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

তবু আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে না সুইডেন। দলের সাপোর্ট স্টাফ এবং প্রাক্তন মিডফিল্ডার সেবাস্টিয়ান লারসন মনে করিয়ে দিয়েছেন, অতীতেও সুইডেন একাধিকবার বড় দলকে হারিয়েছে। ২০১২ ইউরোতে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে জয়ের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, মাঠে নামার আগে কোনওভাবেই হার মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকা চলবে না।

তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সুইডেনের ধাক্কা, প্রধান ডিফেন্ডার আইজ্যাক হেউনকে চোটের কারণে পাওয়া যাবে না। ফলে শক্তিশালী ফরাসি আক্রমণকে সামলানো আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও সুইডেন। তাই ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ে কারা জায়গা করে নেয়, সেটাই এখন দেখার।