শুরুতেই বজ্রপাত, তারপর ডাচ দাপট! তিউনিশিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউটে নেদারল্যান্ডস

চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ এফ-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিল নেদারল্যান্ডস ( World Cup 2026)। শুক্রবার ভোরে কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তিউনিশিয়াকে ৩-১ গোলে…

netherlands-beat-tunisia-to-top-group-f-world-cup-2026

চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ এফ-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিল নেদারল্যান্ডস ( World Cup 2026)। শুক্রবার ভোরে কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তিউনিশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ডাচরা শুধু নকআউটেই উঠল না, গ্রুপ সেরার আসনও নিশ্চিত করল।

তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই শেষ ৩২-এ পা রাখল তারা। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নেদারল্যান্ডস। তিউনিশিয়ার রক্ষণকে চাপে রেখে মাত্র তিন মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। ডাচদের আক্রমণ সামলাতে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আত্মঘাতী গোল করে বসেন তিউনিশিয়ার মিডফিল্ডার ইলিয়াস স্কিরি। এতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস।

   

আরও দেখুনঃ শেষ মুহূর্তের গোলে আমেরিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ তুরস্কের

প্রথম গোলের ধাক্কা সামলানোর আগেই আরও বড় বিপদে পড়ে আফ্রিকার দলটি। সপ্তম মিনিটে একটি সেট-পিস থেকে ভার্জিল ভ্যান ডাইকের হেড ব্রায়ান ব্রবির কাছে পৌঁছায়। সুযোগ হাতছাড়া না করে ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান ২-০ করে দেন ব্রবি। এরপর অবশ্য তিউনিশিয়াও কিছুটা ছন্দে ফেরার চেষ্টা করে।

আনিস বেন স্লিমানের তৈরি করা সুযোগ থেকে আলি আবদির শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কিছুক্ষণ পর বেন স্লিমানের হেডও দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেন। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসও একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। ইয়ান পল ভ্যান হেকে, তিজানি রেইন্ডার্স, ডনিয়েল মালেন ও কোডি গ্যাকপো একাধিক সুযোগ পেলেও ব্যবধান আর বাড়াতে পারেননি। ফলে ২-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় ডাচরা।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার লড়াই শুরু করে তিউনিশিয়া। ৫৪ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে হানিবাল মেজব্রির দুর্দান্ত ক্রসকে নিখুঁত হেডে গোলে পরিণত করেন হাজেম মাস্তৌরি। সেই গোলে ব্যবধান কমে ২-১ হওয়ায় ম্যাচে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে সেই আশা বেশিক্ষণ টিকতে দেয়নি নেদারল্যান্ডস। ৬২ মিনিটে আরেকটি সেট-পিস থেকেই আসে তাদের তৃতীয় গোল। সিক্স-ইয়ার্ড বক্সে উঠে এসে ইয়ান পল ভ্যান হেকে শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠিয়ে দলের জয় কার্যত নিশ্চিত করে দেন।

শেষ আধঘণ্টায় তিউনিশিয়া মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালালেও ডাচ রক্ষণ ছিল যথেষ্ট সংগঠিত। হানিবাল মেজব্রি ও ইলিয়াস আশুরি সুযোগ পেলেও গোল করতে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে ভার্জিল ভ্যান ডাইক ও নাথান আকেরও গোলের সুযোগ তৈরি হলেও ব্যবধান আর বাড়েনি। যোগ করা সময়ে মাস্তৌরির শেষ প্রচেষ্টাও সফল না হওয়ায় ৩-১ গোলের ব্যবধানেই ম্যাচ শেষ হয়।

এই জয়ের ফলে নেদারল্যান্ডস তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপ এফ-এর শীর্ষস্থান দখল করে শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করল। অন্যদিকে তিউনিশিয়া পরাজয়ের ফলে টুর্নামেন্টে তাদের যাত্রা কার্যত শেষ হয়ে গেল। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল, সেট-পিসের কার্যকর ব্যবহার এবং রক্ষণে দৃঢ়তা এই তিন দিকেই এগিয়ে থেকে যোগ্য দল হিসেবেই গুরুত্বপূর্ণ এই জয় তুলে নিল ডাচ ব্রিগেড।