বাংলাদেশকে হারিয়ে সেমিফাইনালের আশা উজ্জ্বল, দাপুটে জয়ে এগোল ভারত

রাধা যাদবের দুরন্ত বোলিং ও শেফালি বর্মার ঝোড়ো অর্ধশতকে বাংলাদেশকে সহজেই হারাল ভারত। এই জয়ে সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে রইল হরমনপ্রীতের দল।

india-beat-bangladesh-Women's T20 World Cup-semifinal-hopes-alive

Women’s T20 World Cup: টানা দুই জয়ের পর হঠাৎ হারের ধাক্কায় কিছুটা চাপে পড়েছিল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই পরীক্ষায় দুর্দান্তভাবে উত্তীর্ণ হল হরমনপ্রীত কৌরের দল। ব্যাট ও বল, দুই বিভাগেই নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স দেখিয়ে বাংলাদেশকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ চারে ওঠার আশা জিইয়ে রাখল ভারত।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে তাদের পরিকল্পনায় শুরুতেই ধাক্কা দেন ভারতীয় পেসার রেনুকা সিং। ওপেনার দিলারা আখতারকে দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে তিনি ভারতকে আদর্শ সূচনা এনে দেন। যদিও এরপর জৌরিয়া ফিরদৌস এবং শোভনা মোস্তারি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দু’জনেই গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করে দলকে বিপদ থেকে টেনে বের করার চেষ্টা করেন। মাঝের ওভারগুলিতে অধিনায়ক নিগারা সুলতানাও দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন।

   

এক সময় বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১০৬ রানে ৪ উইকেট। মনে হচ্ছিল শেষ কয়েক ওভারে বড় সংগ্রহ গড়ে তুলতে পারে তারা। কিন্তু ভারতীয় বোলাররা দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন। বিশেষ করে স্পিনার রাধা যাদব নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের রান তোলার গতি আটকে দেন। শেষদিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটের বিনিময়ে ১৩৬ রানেই থেমে যায়। রাধা ৩ উইকেট নিয়ে ভারতের সবচেয়ে সফল বোলার হন।

১৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল। শেফালি বর্মা ও স্মৃতি মন্দানার ওপেনিং জুটি দ্রুত রান তুলতে শুরু করে। যদিও মন্দানা বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। মাত্র ৮ রান করে তিনি আউট হন। তবে তাতে ভারতের রানের গতি কমেনি। শেফালি শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং একের পর এক আকর্ষণীয় শট খেলতে থাকেন।

ইয়াস্তিকা ভাটিয়াকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান। মাত্র ৩৬ বলে ৫৩ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেন শেফালি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৮টি চার ও একটি ছক্কা। তবে তিনি আউট হওয়ার পর ম্যাচে সামান্য উত্তেজনা তৈরি হয়। ভারত দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারায় এবং রান তোলার গতি কিছুটা কমে যায়। রিচা ঘোষও বড় রান করতে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশের শিবিরে আশার আলো দেখা দেয়।

কিন্তু সেই সময় দলের হাল ধরেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর এবং জেমাইমা রডরিগেজ। দু’জনেই ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দেন। বিশেষ করে জেমাইমা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা মেরে ম্যাচের রাশ পুরোপুরি ভারতের হাতে এনে দেন। পরে তিনি আউট হলেও ততক্ষণে জয়ের পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত কোনও বড় বাধার মুখে না পড়েই ভারত লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে। ১৯ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে হরমনপ্রীতের দল। এই জয়ের ফলে শুধু দুই পয়েন্টই নয়, সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়েও নিজেদের শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেল ভারত। এখন শেষ চারের টিকিটের জন্য বাকি ম্যাচগুলির দিকেও নজর থাকবে ভারতীয় শিবিরের।