যোগী রাজ্যকে হার মানাবে বাংলা! ব্যারাকপুরে ধূলিস্যাৎ রমেশ সাউয়ের তৃণমূল কার্যালয়

কলকাতা: বুলডোজার চালানোয় যোগী রাজ্যকে এবার ফেলবে বাংলা। (Barrackpore)ব্যারাকপুরে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে প্রশাসনের উপস্থিতিতে…

barrackpore-tmc-office-demolition

কলকাতা: বুলডোজার চালানোয় যোগী রাজ্যকে এবার ফেলবে বাংলা। (Barrackpore)ব্যারাকপুরে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে প্রশাসনের উপস্থিতিতে বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের আরও একটি পার্টি অফিস। ঘটনাটি ঘটেছে ব্যারাকপুর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের তালপুকুর এলাকায়, যা টিটাগড় থানার অন্তর্গত। প্রশাসনের দাবি, সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে অননুমোদিতভাবে নির্মিত এই কাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভেঙে ফেলা পার্টি অফিসটি তৃণমূল কাউন্সিলর রমেশ সাউয়ের কার্যালয় এবং দলীয় অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। মঙ্গলবার বিকেলে সরকারি আধিকারিক, পুরসভার কর্মী এবং বিশাল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে একটি আর্থমুভার বা জেসিবি মেশিন এনে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সম্পূর্ণ কাঠামোটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার স্বার্থে কড়া পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

   

আরও দেখুনঃ তুমুল ঝড়বৃষ্টি তিলোত্তমায়! ভাঙল গাছ! কলকাতা সহ ৭ জেলায় কমলা সতর্কতা

প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, সরকারি জমি বা জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত জায়গা দখল করে এই কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকেও অভিযোগ জমা পড়ছিল বলে জানা গেছে। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ওই অফিসের কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়েছিল এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছিল।

উচ্ছেদ অভিযানের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের একাংশ এই ঘটনাকে বেআইনি দখলদারির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশের দাবি, বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তাঁদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে সাম্প্রতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বেআইনি নির্মাণ ও দখলদারি বিরোধী অভিযান প্রশাসনের অন্যতম বড় কর্মসূচি হয়ে উঠেছে। গত কয়েক মাসে উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় এবং কলকাতার একাধিক জায়গায় অননুমোদিত নির্মাণ ভাঙার ঘটনা সামনে এসেছে। প্রশাসনের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলকেই বেশি টার্গেট করা হচ্ছে।

এর আগেও টিটাগড়, নৈহাটি এবং কলকাতার বেলেঘাটা এলাকায় একাধিক তৃণমূল কার্যালয় ভাঙার ঘটনা শিরোনামে এসেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তালপুকুরের ঘটনাও নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যজুড়ে বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করার কাজ চলছে এবং ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অবশ্য প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, রাস্তা ও সরকারি জমি দখল করে কোনও নির্মাণই গ্রহণযোগ্য নয়, তা সে রাজনৈতিক দলের অফিস হোক বা অন্য কোনও বেসরকারি স্থাপনা। আবার অন্য একটি অংশের মত, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সব পক্ষের বিরুদ্ধে সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।