জয়পুর: জয়পুর থেকে এক মহিলাকে গ্রেফতার করে বড়সড় সাফল্য রাজস্থান ATS র (babita)। দাবি করেছে রাজস্থান অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS)। ধৃত মহিলার নাম ববিতা ধাকার, যিনি ধর্ম পরিবর্তনের পর নিজের নাম রেখেছিলেন ‘খাদিজা’।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তির সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ রেখে চলছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানের পর এই গ্রেফতারিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।
আরও দেখুনঃ লোকসভায় ইস্তফা দিলেন সন্ত্ৰাসবাদী কার্যকলাপে যুক্ত বারামুল্লার সাংসদ
রাজস্থানের গঙ্গাপুর সিটির বাসিন্দা ববিতা ধাকার গত কয়েক বছর ধরে জয়পুরে বসবাস করছিলেন। এটিএস সূত্রে জানা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে চরমপন্থী মতাদর্শের সংস্পর্শে আসেন। তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানে অবস্থানকারী এক মুফতির সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগের পর তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ফোনের মাধ্যমে কলমা পাঠ করে ধর্মান্তরিত হওয়ার পর নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘খাদিজা’ রাখেন বলে অভিযোগ।
তদন্তে উঠে এসেছে, ধর্ম পরিবর্তনের পর তাঁর অনলাইন কার্যকলাপে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়। রাজস্থান এটিএস-এর প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানের কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এই ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে জয়েশ-ই-মোহাম্মদ সংগঠনের যোগসূত্র রয়েছে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।
নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, ধৃত মহিলার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একাধিক আপত্তিজনক পোস্ট, অস্ত্রধারী জঙ্গিদের ছবি, উগ্রপন্থী প্রচারমূলক কনটেন্ট এবং বিদেশি সংযোগের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তাঁর ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্ট এবং মেসেজিং অ্যাপের কথোপকথনও এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই যোগাযোগ শুধুমাত্র মতাদর্শগত সমর্থনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তাঁকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করা হচ্ছিল।
গোয়েন্দা সূত্র থেকে পাওয়া নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই রাজস্থান এটিএস গত ২১ জুন একটি বিশেষ অভিযান চালায়। প্রথমে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তাঁর মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে চরমপন্থী সংগঠনগুলি সরাসরি যোগাযোগের পরিবর্তে সোশ্যাল মিডিয়া এবং এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নতুন সদস্য বা সমর্থক সংগ্রহের চেষ্টা করছে। ফলে এমন ঘটনাগুলি দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সীমান্তের বাইরে থেকে পরিচালিত ডিজিটাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক রয়েছে গোয়েন্দা মহল।


