বহু বছর আগে মৃত নক্ষত্রগুলো কীভাবে হঠাৎ আবার ‘প্রাণ’ ফিরে পেল?

NASA Space Discovery: একবার কল্পনা করুন তো—এমন কোনো কিছু যা বহু বছর আগেই অস্তিত্ব হারিয়েছিল, তা যদি হঠাৎ আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে, তবে কী ঘটবে? ঠিক…

NASA Space Discovery: একবার কল্পনা করুন তো—এমন কোনো কিছু যা বহু বছর আগেই অস্তিত্ব হারিয়েছিল, তা যদি হঠাৎ আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে, তবে কী ঘটবে? ঠিক এমনই এক ঘটনা বর্তমানে মহাকাশে ঘটতে দেখা যাচ্ছে। নাসার বিজ্ঞানীরা যখন পার্শ্ববর্তী একটি গ্যালাক্সিতে বিস্ফোরিত নক্ষত্রের অবশিষ্টাংশ নিয়ে গবেষণা করছিলেন, তখন তাঁরা ধারণা করেন যে এই ধ্বংসাবশেষগুলো ধীরে ধীরে শীতল ও ম্লান হয়ে যাবে। কিন্তু তাঁরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন যে, সুপ্ত অবস্থায় থাকা নক্ষত্রের এই অবশিষ্টাংশগুলোর মধ্যে অত্যন্ত অদ্ভুত সব পরিবর্তন ঘটছে। নক্ষত্রগুলো স্থিরভাবে আলো দেওয়ার পরিবর্তে যেন মিটমিট করে জ্বলছে—ঠিক যেন মহাবিশ্বের কেউ কোনো আলোর সুইচ বারবার অন-অফ করছে। মহাকাশে এমনটা কেন ঘটছে? এর পেছনের কারণটাই বা কী? আসুন, তা জেনে নেওয়া যাক…

নাসার বিজ্ঞানীদের মতে, আমাদের প্রতিবেশী গ্যালাক্সিতে মৃত নক্ষত্রগুলোর অবশিষ্টাংশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণত কোনো নক্ষত্র বিস্ফোরিত হওয়ার পর সময়ের সাথে সাথে তার আলো ও উজ্জ্বলতা ক্রমশ ম্লান হয়ে যায়; কিন্তু এক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, এই মৃত নক্ষত্রগুলোর উজ্জ্বলতায় ব্যাপক ওঠানামা ঘটছে—অর্থাৎ সেগুলো হঠাৎ করেই ম্লান ও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। এই বিস্ময়কর গবেষণার ফলাফল *দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল*-এ প্রকাশিত হয়েছে।

   

১৪ বছরের তথ্যে উন্মোচিত এক রহস্য
এই বিস্ময়কর আবিষ্কারের জন্য নাসার বিজ্ঞানীরা ‘চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরি’ (Chandra X-ray Observatory) ব্যবহার করেছেন। তাঁরা পৃথিবী থেকে প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ‘মেসিয়ার ৮৩’ (Messier 83) নামক গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন। বিজ্ঞানীরা ২০০০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত—অর্থাৎ দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে সংগৃহীত তথ্য অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। এই বিশ্লেষণের ফলাফল সত্যিই বিস্ময়কর।

এর পেছনের কারণ কী হতে পারে? বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে দুটি প্রধান তত্ত্ব দিয়েছেন—

যুগ্ম তারার টিকে থাকা
মহাবিশ্বে প্রায়শই দুটি বিশাল আকৃতির তারা একে অপরকে কেন্দ্র করে আবর্তন করে। এদের মধ্যে একটি তারা যখন বিস্ফোরিত হয়ে কৃষ্ণগহ্বর (ব্ল্যাক হোল) বা নিউট্রন তারায় পরিণত হয়, তখন তার সঙ্গী তারাটি টিকে থাকে। এরপর সেই কৃষ্ণগহ্বর বা নিউট্রন তারাটি তার টিকে থাকা সঙ্গী তারা থেকে গ্যাস ও পদার্থ নিজের দিকে টেনে নিতে থাকে। পদার্থ আহরণ ও তীব্র মহাকর্ষীয় বলের প্রভাবে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, যার ফলে উচ্চ-শক্তির এক্স-রশ্মি নির্গত হয়।

ধ্বংসাবশেষ পুনরায় শুষে নেওয়া
আরেকটি সম্ভাবনা হলো, নক্ষত্রটির বিস্ফোরণের পর অবশিষ্ট ব্ল্যাক হোল বা নিউট্রন তারাটি বিস্ফোরণের সময় ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষকেই আবার নিজের দিকে টেনে নিচ্ছে এবং এর ফলেই এই আভার সৃষ্টি হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এখন এই রহস্যটি আরও গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করছেন।