বিট্টু দত্ত, কলকাতা: টি-২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup) শুরুটা ভারতের মহিলা দলের জন্য ছিল স্বপ্নের মতো। টানা দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে স্মৃতি মন্ধানার দল নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং— তিন বিভাগেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে উইমেন ইন ব্লু। তবে এই সাফল্যের মাঝেই বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় শিবির। চোটের কারণে গোটা বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেলেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্পিনার শ্রেয়াঙ্কা পাটিল।
চলতি বিশ্বকাপে ভারতের স্পিন আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ছিলেন শ্রেয়াঙ্কা। বিশেষ করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের ম্যাচে তাঁর বোলিং বড় ভূমিকা নিয়েছিল। মাঝের ওভারে প্রতিপক্ষের রান আটকে রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষমতার জন্য তিনি দলের অন্যতম ভরসায় পরিণত হয়েছিলেন। ফলে তাঁর চোট ভারতীয় দলের জন্য নিঃসন্দেহে বড় ক্ষতি।
Also Read | FIFA World Cup: মেক্সিকোর নকআউট নিশ্চিত, কাতারকে ৬ গোল দিল কানাডা
গত বুধবার নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ম্যাচে দুর্ভাগ্যজনকভাবে চোট পান শ্রেয়াঙ্কা। নিজের স্পেলের মাত্র একটি বল করার পরই ডান পায়ে গুরুতর চোট লাগে তাঁর। যন্ত্রণায় কাতর হয়ে মাঠে লুটিয়ে পড়েন তিনি। অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে নিজের পায়ে হেঁটে মাঠ ছাড়তে পারেননি। শেষ পর্যন্ত স্ট্রেচারে করে তাঁকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই মুহূর্ত থেকেই তাঁর বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। পরে চিকিৎসকদের রিপোর্টে নিশ্চিত হয় যে তিনি আর এই টুর্নামেন্টে খেলতে পারবেন না।
শ্রেয়াঙ্কার পরিবর্ত হিসেবে ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন তরুণ লেগস্পিনার প্রেমা রাওয়াত। ২৪ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স করেছেন তিনি। এছাড়া মহিলা প্রিমিয়ার লিগে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে তাঁর বোলিং নজর কেড়েছে। বর্তমানে ইংল্যান্ডে ভারত ‘এ’ দলের সঙ্গে থাকায় দ্রুত তাঁকে মূল দলে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
Also Read | সবুজ-মেরুন অধ্যায়ের ইতি? মোহনবাগান ছাড়ার গুঞ্জনে অনিরুদ্ধ থাপা
তবে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রথমবার নামা যে সহজ হবে না, তা বলাই বাহুল্য। শ্রেয়াঙ্কার অভিজ্ঞতা ও কার্যকারিতা পূরণ করা প্রেমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ সামলে নিজের সেরাটা দেওয়াই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য হবে।
ভারতের সামনে এখন আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। আগামী রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলবে তারা। এরপর গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ ও শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচটি ভারতের সেমিফাইনাল এবং গ্রুপ শীর্ষস্থান নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
ভারতের মহিলা দল অতীতে টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলেও এখনও শিরোপা জয়ের স্বাদ পায়নি। তবে গত বছর একদিনের বিশ্বকাপ জিতে তারা নতুন ইতিহাস গড়েছে। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই এবার টি-২০ বিশ্বকাপেও অভিযান শুরু করেছে ভারত। শ্রেয়াঙ্কার অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা হলেও দলটির গভীরতা এবং ভারসাম্য যথেষ্ট শক্তিশালী। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি তরুণদেরও নিজেদের দায়িত্ব নিতে হবে। চোটের এই বাধা অতিক্রম করে ভারত যদি নিজেদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, তাহলে বহু প্রতীক্ষিত টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এবার সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বলই থাকবে।



