কলকাতা: বুধবার রাত ৯:৩০টা নাগাদ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য (Mamata Banerjee)। বুধবার বিকেলে সরকারের হকার উচ্ছেদ নিয়ে রাস্তায় মানব বন্ধনে অংশ নেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক তার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই কালীঘাটের বাসভবন থেকে তাঁর দীর্ঘ ২০ বছরের পিএসও (ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মী)-দের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ ও ‘ষড়যন্ত্র’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
একটি ভিডিও বার্তায় তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে বাসভবনে আছেন এবং সেখানে কোনও নিরাপত্তা কর্মী নেই। তিনি নিজের গাড়ি দিয়ে প্রবেশপথ আটকে রেখে পরিস্থিতির ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন। তিনি এটিকে ‘পলিটিক্যাল ভেন্ডেটা’-র নতুন নিচু স্তর বলে অভিহিত করেন এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, “আপনি ঠিক কী পরিকল্পনা করছেন?”
আরও দেখুনঃ মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক সমঝোতা!
তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, দীর্ঘদিন যে নিরাপত্তা কর্মীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন, তাদের হঠাৎ সরিয়ে দেওয়া কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং তাঁকে একঘরে করে বিপদের মুখে ফেলার একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। তাঁরা বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার পরিচয় বহন করে।অন্যদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
তবে বিজেপি ও শাসক শিবিরের কিছু নেতা বলছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্গঠন প্রতিটি নতুন সরকারের অধিকার। তাঁদের মতে, এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়, বরং প্রশাসনিক নিয়মানুবর্তিতা। কিন্তু তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই যুক্তি মানতে নারাজ। তৃণমূলের তরফ থেকে অনেকেই বলেছেন শুধু মাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই মমতার এতদিনের নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আবার অনেকেই বলেছেন মমতা হকার উচ্ছেদে রাস্তায় নামতেই ঝটিতি সিদ্ধান্তে তার নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হল।


