শারীরিক সমস্যার কারণে সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন শিবানী দে কুণ্ডু

পঞ্চায়েত ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। ব্যক্তিগত ও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন নন্দকুমার পঞ্চায়েত সমিতির…

Shibani Dey Kundu Resigns from Panchayat Samiti Presidency Citing Medical Reasons

পঞ্চায়েত ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। ব্যক্তিগত ও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন নন্দকুমার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী শিবানী দে কুণ্ডু। (Shibani Dey Kundu) সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে তিনি তমলুকের মহকুমা শাসকের (SDO) দফতরে নিজের লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। কারণ, সাম্প্রতিক পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর নন্দকুমার এলাকায় তৃণমূলের সংগঠন যখন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছিল, সেই সময়েই সভাপতির এই আকস্মিক পদত্যাগ অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

   

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে নন্দকুমার পঞ্চায়েত সমিতির ২২ নম্বর আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন শিবানী দে কুণ্ডু। বাগমারী গ্রামের বাসিন্দা শিবানীদেবী সেই সময় এলাকায় সংগঠনের একজন গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে উঠে আসেন। নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে, অর্থাৎ ২০২৩ সালের ২৪ আগস্ট, পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠনের সময় সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে সভাপতি পদে নির্বাচিত করা হয়।

দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে প্রায় তিন বছর তিনি নন্দকুমার পঞ্চায়েত সমিতির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের একাধিক প্রকল্পে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়। ফলে তাঁর হঠাৎ পদত্যাগ প্রশাসনিক মহলেও কিছুটা বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।

মহকুমা শাসকের কাছে জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে শিবানী দে কুণ্ডু স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বর্তমানে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে। এই অবস্থায় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলেই তিনি স্বেচ্ছায় সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে এই পদত্যাগকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে নানান জল্পনা। দলের একাংশের মতে, শুধুমাত্র শারীরিক অসুস্থতা নয়, এর পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ বা দলীয় অভ্যন্তরীণ চাপও থাকতে পারে। যদিও এই বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।