বিট্টু দত্ত, কলকাতা: বিশ্বকাপে (FIFA World Cup) আট বছর পর প্রত্যাবর্তন করে দুর্দান্ত সূচনা করল সুইডেন। গ্রুপ এফ-এর ম্যাচে টিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তির পরিচয় দিল গ্রাহাম পটারের দল। আক্রমণাত্মক ফুটবল, নিখুঁত পাসিং এবং প্রযুক্তির অভিনব ব্যবহারে ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে ইয়াসিন আয়ারির জোড়া গোল এবং স্নিকো প্রযুক্তির প্রথম বিশ্বকাপ-ব্যবহার ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই সুইডেন আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে। সপ্তম মিনিটেই অসাধারণ এক দূরপাল্লার শটে দলকে এগিয়ে দেন ইয়াসিন আয়ারি। টিউনিসিয়ান বংশোদ্ভূত এই মিডফিল্ডার গোল করার পর কোনও উচ্ছ্বাস প্রকাশ না করে নিজের পিতৃভূমির প্রতি সম্মান জানান, যা দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই গোলের পর সুইডেন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং টিউনিসিয়ার রক্ষণভাগের উপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।
৩০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আলেকজান্ডার ইসাক। সুইডেনের দ্রুত আক্রমণ থেকে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি বল জালে জড়িয়ে দেন। প্রথমার্ধে সুইডেনের দাপট স্পষ্ট থাকলেও ৪৩ মিনিটে ওমর রেকিকের হেডে একটি গোল শোধ করে টিউনিসিয়া। সেই গোলের ফলে বিরতির সময় স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-১ এবং ম্যাচে ফেরার আশা দেখেছিল আফ্রিকার দলটি।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে সুইডেন কোনও সুযোগ দেয়নি প্রতিপক্ষকে। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে তারা একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। ভিক্টর গিয়োকেরেসও গোলের খাতা খুলে দলের জয়কে আরও সহজ করে দেন। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের প্লে-অফে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া এই স্ট্রাইকার আবারও নিজের মূল্য প্রমাণ করেন।
ম্যাচের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ঘটে ৮৪ মিনিটে। মাটিয়াস সভানবার্গ গোল করলেও প্রথমে অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল করা হয়। পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) প্রযুক্তির সাহায্যে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়। সেখানে ব্যবহার করা হয় স্নিকো প্রযুক্তি, যা ক্রিকেটে ডিআরএস ব্যবস্থায় বহুল পরিচিত। প্রযুক্তির মাধ্যমে দেখা যায়, বলটি সভানবার্গের কাছে পৌঁছানোর আগে আলেকজান্ডার ইসাকের বুটে সামান্য স্পর্শ করেছিল। খালি চোখে যা বোঝা সম্ভব ছিল না, প্রযুক্তি তা স্পষ্ট করে দেয়। ফলে গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। ফুটবল বিশ্বকাপে ‘স্নিকো’ নাম নিয়ে এই প্রযুক্তির এটিই প্রথম ব্যবহার, যা ভবিষ্যতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে, যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে, ইয়াসিন আয়ারি নিজের দ্বিতীয় গোল করে টিউনিসিয়ার শেষ আশাটুকুও শেষ করে দেন। তাঁর দুই গোলই ইতিমধ্যেই চলতি বিশ্বকাপের সেরা গোলগুলির মধ্যে স্থান পাওয়ার দাবিদার বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
এই জয়ের ফলে গ্রুপ এফ-এর শীর্ষে উঠে এসেছে সুইডেন। একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে জাপান ও নেদারল্যান্ডস ২-২ গোলে ড্র করায় সুইডেনের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তনের প্রথম ম্যাচেই এমন দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে সুইডেন স্পষ্ট বার্তা দিল—তারা এবার শুধু অংশগ্রহণ করতেই নয়, বড় সাফল্যের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছে।





