পেনাল্টি বিতর্কে চাপে ফিফা, কাতার ম্যাচে VAR সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন

কাতার-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে পেনাল্টি সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র বিতর্ক। অফসাইড নিয়ে প্রশ্ন তুলে VAR-এর স্বচ্ছতা নিয়েও সমালোচনায় ফুটবলবিশ্ব।

fifa-world-cup-var-penalty-controversy-qatar-switzerland

স্পোর্টস ডেস্ক, কলকাতা: ফিফা বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) আসর এবার বসেছে আমেরিকার মাটিতে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই নানা বিতর্ক ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছিল, আর ম্যাচ গড়াতেই সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এবার সমালোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে কাতার ও সুইজারল্যান্ডের ম্যাচে রেফারির একটি পেনাল্টি সিদ্ধান্ত। ফুটবলপ্রেমী থেকে শুরু করে প্রাক্তন তারকা ও বিশেষজ্ঞদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, আদৌ সুইজারল্যান্ডের সেই পেনাল্টি প্রাপ্য ছিল কি না।

ম্যাচের ১৪ মিনিটে ঘটনাটি ঘটে। সুইজারল্যান্ডের আক্রমণের সময় কাতারের গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে বক্সের ভিতরে পড়ে যান সুইস ফরোয়ার্ড রেমো ফ্রেলুর। মাঠের রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) ঘটনাটি পরীক্ষা করে দেখলেও মূল সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। সুইজারল্যান্ড পেনাল্টি পেয়ে যায় এবং ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারত।

   

আরও পড়ুন:

কিন্তু বিতর্কের সূত্রপাত হয় রিপ্লে সম্প্রচারের পর। টেলিভিশনের ফুটেজ দেখে অনেকেরই মনে হয়েছে, ফ্রেলুরকে ফাউল করার আগে তিনি অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। যদি সত্যিই তিনি অফসাইড হয়ে থাকেন, তাহলে সেই আক্রমণ বাতিল হওয়ার কথা এবং পেনাল্টি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ফলে VAR-এর সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

আধুনিক ফুটবলে অফসাইড নির্ধারণে সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এই প্রযুক্তি খেলোয়াড়ের শরীরের ক্ষুদ্রতম অংশও অফসাইড লাইনের বাইরে থাকলে তা শনাক্ত করতে সক্ষম। তবে এই ম্যাচে বিতর্ক আরও বেড়ে যায় কারণ টেলিভিশন সম্প্রচারে সেই প্রযুক্তির গ্রাফিক্স দেখানো হয়নি। ফলে দর্শকরা বুঝতেই পারেননি VAR ঠিক কী ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরও পড়ুন:

এই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন তারকা গ্যারি নেভিল এবং ইয়ান রাইটের মতো বিশিষ্ট ফুটবল বিশ্লেষকরাও। তাঁদের বক্তব্য, দর্শকদের সামনে যদি প্রমাণই তুলে ধরা না হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হবে। প্রযুক্তি ব্যবহারের দাবি করা হলেও তার দৃশ্যমান ব্যাখ্যা না থাকলে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।

ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে পরে ফিফা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার দাবি, VAR দল অফসাইডের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষা করেছে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও ভুল হয়নি। যদিও সম্প্রচারে সেমি-অটোমেটেড অফসাইড গ্রাফিক্স দেখানো হয়নি, VAR কর্মকর্তারা নিজেদের মনিটরে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করেছিলেন। ফিফা স্পষ্ট জানায়, পেনাল্টি দেওয়ার আগে সমস্ত নিয়ম মেনেই অফসাইড যাচাই করা হয়েছিল।

তবে ফিফার ব্যাখ্যার পরও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। সামাজিক মাধ্যমে এখনও বহু সমর্থক ও বিশেষজ্ঞ সেই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ম্যাচে সুইজারল্যান্ড জয় পায়নি। দুর্দান্ত লড়াই করে কাতার ১-১ গোলে ম্যাচ ড্র করে মূল্যবান এক পয়েন্ট আদায় করে নেয়।

অন্যদিকে, বিশ্বকাপের আরেক ম্যাচে ইতিহাস গড়েছে স্কটল্যান্ড। ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে জয় তুলে নিয়েছে স্কটিশরা। দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপে ফেরা হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্মরণীয় সাফল্য অর্জন করে তারা। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন জন ম্যাকগিন। শেষবার ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে সুইডেনকে হারিয়েছিল স্কটল্যান্ড। এরপর ১৯৯৮ সালের পর দীর্ঘ সময় বিশ্বকাপের মূল পর্বেই জায়গা করে নিতে পারেনি দলটি। তাই এবারের জয় শুধু তিন পয়েন্ট নয়, স্কটিশ ফুটবলের জন্য এক আবেগঘন ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।