ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। (Dhiraj Sheth)আনুষ্ঠানিকভাবে লেফট্যানেন্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেশের পরবর্তী স্থলসেনা প্রধান বা চিফ অফ দ্য আর্মি স্টাফ (COAS) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। শনিবার, ১৩ জুন তারিখে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়, যা ইতিমধ্যেই সামরিক ও কূটনৈতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর জায়গা নিচ্ছেন লেফট্যানেন্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ। জেনারেল দ্বিবেদী আগামী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করবেন। সেই দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ধীরাজ শেঠ, বিকেল থেকে তাঁর নেতৃত্বে শুরু হবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নতুন অধ্যায়।
আরও দেখুনঃ পরবর্তী সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ, ৩০ জুন করবেন দায়িত্ব গ্রহণ
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে তাঁর কার্যকাল চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় তিনি দেশের সর্বোচ্চ স্থলসেনা নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করবেন। এই সময়ে দেশের নিরাপত্তা কৌশল, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।
লেফট্যানেন্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ অফ দ্য আর্মি স্টাফ (VCOAS) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই পদে থেকেই তিনি সেনাবাহিনীর প্রশাসনিক ও কৌশলগত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অংশ নিয়েছেন। তাঁর দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বগুণ তাঁকে এই শীর্ষ পদে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
একজন ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির (NDA) প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে ধীরাজ শেঠ ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আর্মার্ড কোরে কমিশন লাভ করেন। প্রায় চার দশকের দীর্ঘ সামরিক জীবনে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন এবং কমান্ড পদে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে কাউন্টার-ইনসার্জেন্সি অপারেশনে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে।
তাঁর কর্মজীবনে তিনি সুদর্শন চক্র কর্পস-এর নেতৃত্ব দিয়েছেন, যা ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাইক ফর্মেশন হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও তিনি সেনাবাহিনীর সাউথ ওয়েস্টার্ন এবং সাউদার্ন কমান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডের নেতৃত্বে ছিলেন। প্রতিটি দায়িত্বেই তিনি আধুনিক যুদ্ধনীতি, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং কৌশলগত পরিকল্পনার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বলে সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ঘোষণার পর সামরিক মহলে মনে করা হচ্ছে, এই নিয়োগ সেনাবাহিনীর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন দিশা দেখাবে। বিশেষ করে সীমান্তে উত্তেজনা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তির ব্যবহার এই সব ক্ষেত্রেই নতুন সেনাপ্রধানের সামনে বড় দায়িত্ব থাকবে।
সরকারি সূত্রে আরও বলা হয়েছে, এই নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং এতে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ধীরাজ শেঠের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং বিভিন্ন অপারেশনাল দায়িত্ব পালনের রেকর্ড তাঁকে এই পদে উপযুক্ত করে তুলেছে।



















