ত্রিপুরায় উগ্রপন্থী সংগঠনের ডাকা অবরোধ ভেস্তে দিল গেরুয়া সরকারের প্রশাসন

আগরতলা: ত্রিপুরায় পুনর্বাসন ও জীবিকার দাবিতে প্রাক্তন উগ্রপন্থীদের ডাকা ৭২ ঘণ্টার সড়ক ও রেল অবরোধ ঘিরে (Tripura)শুক্রবার সকালে রাজ্যজুড়ে ছড়াল উত্তেজনা। উত্তেজনা ছড়ালেও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
former-insurgents-call-off-tripura-road-and-rail-blockade-after-talks

আগরতলা: ত্রিপুরায় পুনর্বাসন ও জীবিকার দাবিতে প্রাক্তন উগ্রপন্থীদের ডাকা ৭২ ঘণ্টার সড়ক ও রেল অবরোধ ঘিরে (Tripura)শুক্রবার সকালে রাজ্যজুড়ে ছড়াল উত্তেজনা। উত্তেজনা ছড়ালেও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন বিক্ষোভকারীরা।

   

শুক্রবার সকাল থেকে ত্রিপুরার খয়াই এবং পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবরোধ শুরু হয়। এর ফলে অসম-আগরতলা জাতীয় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং রাজ্যের একমাত্র রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও সাময়িকভাবে প্রভাবিত হয়। যাত্রী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়তে শুরু করলেও প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্যোগী হয়।

আরও দেখুনঃ জালিয়াতি থেকে আপনার আধার কার্ড সুরক্ষিত রাখার উপায় জানুন

এই অবরোধের ডাক দিয়েছিল আত্মসমর্পণকারী দুটি নিষিদ্ধ উগ্রপন্থী সংগঠন ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা (এনএলএফটি) এবং অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স (এটিটিএফ)-এর প্রাক্তন সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক শান্তি চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলি এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

চুক্তি অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন উগ্রপন্থীদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে ২৫০ কোটি টাকার একটি বিশেষ পুনর্বাসন প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল। পাশাপাশি কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, আবাসন এবং জীবিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল। কিন্তু চুক্তির প্রায় দুই বছর পরেও সেই কর্মসূচির বাস্তবায়নে গতি না আসায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে প্রাক্তন সদস্যদের মধ্যে। সেই ক্ষোভ থেকেই ৭২ ঘণ্টার অবরোধের ডাক দেওয়া হয়।

অবরোধের ফলে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় প্রশাসন দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহার নির্দেশে উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতিনিধিরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন। দীর্ঘ আলোচনায় পুনর্বাসন প্রকল্পের অগ্রগতি, আর্থিক সহায়তা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সরকারি সূত্রের দাবি, বিক্ষোভকারীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং পুনর্বাসন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই প্রাক্তন উগ্রপন্থীদের সংগঠন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের ৭২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়।

অবরোধ তুলে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে জাতীয় সড়ক ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে নতুন করে কোনও অস্থিরতা তৈরি না হয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর শান্তি প্রক্রিয়াকে সফল করতে পুনর্বাসন কর্মসূচির দ্রুত বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন উগ্রপন্থীদের সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা এবং তাদের জন্য স্থায়ী জীবিকার ব্যবস্থা করা না গেলে অসন্তোষ ফের বাড়তে পারে। তাই সরকারের সঙ্গে প্রাক্তন সদস্যদের এই সংলাপকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন অনেকে। ফলে আপাতত বড় ধরনের অচলাবস্থা এড়ানো গেলেও, শান্তি চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, তার দিকেই এখন নজর রয়েছে ত্রিপুরাবাসীর।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.