কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভাঙন। (TMC rebel)তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নজিরবিহীন বিদ্রোহ এখন আর জল্পনা নয়, বাস্তব। ১৯৯৮ সালে দল গঠনের পর ২৮ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম এমন বড় আকারের আনুষ্ঠানিক বিভাজন দেখছে দল। বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল পরাজয়ের পর তৃণমূলের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ, নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রিক ‘পরিবারতন্ত্রের’ অভিযোগ।
গত ৩ জুন বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে ৫৮ জন টিএমসি বিধায়ক প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তারা বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোসের কাছে সমর্থনপত্র জমা দিয়ে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস সংসদীয় দল’ বলে দাবি করেন। দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে দুই-তৃতীয়াংশ (কমপক্ষে ৫৪ জন) সমর্থনের শর্ত পূরণ হয়েছে বলে জানানো হয়। তারপর থেকে সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েছে। আজ ১০ জুন সর্বশেষ খবর অনুসারে, বিদ্রোহী বিধায়কের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪-এ।
আরও দেখুনঃ বিদ্রোহী বিধায়কদের নিয়ে রাজারহাটে মুখ্যমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
আরও কয়েকজন যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন বলে বিদ্রোহী শিবিরের নেতারা জানিয়েছেন।স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোস বিদ্রোহীদের দাবি মেনে নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল শিবির কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছে। শুনানি আগামী ১১ জুন।
অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবির দাবি করছে, তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে রাখতে চান, কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো ভূমিকা চান না।এই ভাঙন শুধু বিধানসভায় সীমাবদ্ধ নয়। খবর অনুসারে, লোকসভায়ও তৃণমূলের অন্তত ২০-২২ জন সাংসদ পৃথক ব্লক তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং এনডিএ-কে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, সই জালিয়াতির মামলা, সাংগঠনিক অসন্তোষ সব মিলিয়ে তৃণমূল এখন তিন খণ্ডে বিভক্ত বলে মনে করা হচ্ছে।



















